২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঠিকানা হয়নি ভারতীয় সেই হাতির

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে আসা ভারতীয় বুনো হাতিটি সর্বশেষ সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ছেইন্না চরে অবস্থান করছে।
 
বৃহষ্পতিবার খুব ভোরে ওই চরে ফিরে আসে। শুক্রবার পর্যন্ত ৪ দিন থেকে হাতিটি ওই চরে অবস্থান করছিলো বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জনা গেছে। এর আগে বুধবার হাতিটি পাশের শিমলার চরে গিয়েছিল।
 
শিমলার চর ঘুরে আবারো ছেইন্নার চরে ফিরে আসে বলে চর জানান ঢাকা সাাফারি পার্কের উইল্ট লাইভ ইন্সপেক্টর ওয়াসিম মল্লিক।
 
শুক্রবার ফোনে ওয়াসিম মল্লিক আরো জানান, ঘটনাস্থলে এসে যেটা দেখলাম হাতিটি ঘিরে রেখেছে অসংখ্য মানুষ। এ অবস্থায় হাতিটিকে উত্যক্ত করলে মানুষের ওপর হামলা করতে পারে। কেননা তার স্বাভাবিক জীবন যাপন তো ব্যাহত হচ্ছেই। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের সঙ্গে বৈঠক করছি যাতে হাতিটিকে মানুষ উত্যক্ত না করে। যে স্থানে হাতিটি রয়েছে তাতে ট্রাংকুলাইজেশন (চেতনা নাশক ওষুধ) করা যেতে পারে। চেতনা নাশক পুশ করার পর হাতি সাধারণ দৌড়ে দেড়শ গজ দূরে যেতে পারে। এখানে হাতির অবস্থান থেকে পানির দূরত্ব বেশ দূরে। এবিষয় আমি কর্তৃপক্ষ জানাবো। তারা সে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই হবে।
 
মুনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজমোহল বলেন, সাধারণ মানুষকে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মানছেন না। এ নিয়ে খুবই বিপদে আছিরে ভাই। নাটুয়ারপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আলম মিয়া জানান, হাতিটিকে নিয়ে রাতে চরের মানুষের মাঝে এক ধরণের আতংক বিরাজ করছে।
 
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ জুন ভারতের আসাম রাজ্যের শিশুমারা পাহাড়ি এলাকার ওই বুনোহাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভেসে রৌমারীর সাহেবের আলগা সীমান্তের চরবাগুয়ার চরে আটকে যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভেসে ভেসে রৌমারী, রাজীবপুর, ফুলছড়ি, দেওয়ানগঞ্জ এবং যমুনায় সাঘাটা, সারিয়াকান্দি ও কাজিপুর উপজেলার অবস্থান করে। এই সময়ে হাতিটি প্রায় ৯৬ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়েছে।