কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরো প্রায় শতাধিক গ্রাম। পানি উঠেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে আউশ ধান ক্ষেত ও রোপা আমন বীজ তলা। পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে কালীগঞ্জে ওয়াবদা-ধনীরভিটা রাস্তা। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সব নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুকূল ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়ন কম বেশি প্লাবিত হলেও গত দুইদিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্রায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে- দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও শংকোস বিধৌত নারায়নপুরের বালারহাট, ঝাউকুটি, কন্যামতি, আদর্শগ্রাম, মাঝিয়ালী, বংশিরচর, নুনখাওয়ার সারিসুরি, কাপনা, বোয়ালমারী, চরপাটতলা, চরকাপনা, মাঝেরচর, কাটগিরী, ফকিরগঞ্জ, কারিকাপুর, পাটতলা গুচ্ছগ্রাম, কচাকাটার ধনিরামপুর, শৈলমারী, তরিরহাট নতুন বাজার বদুর দোলা, ব্যাপারীর চর, পাইকারটারী, ভবের হাইল্যা, ইন্দ্রগড়, কাটাজেলাস, কেদারের টাপুর গ্রাম, সাতানা, পুটিমারী, বিষ্ণুপুর, বল্লভের খাসের টাপুরচর, ফান্দিরচর, নামারচর, কালীগঞ্জের ফান্দির ভিটা, সাহেবগঞ্জ, ধনীরপাড়, পুর্ব কুমড়িয়ারপাড়, নামারচর, বেরুবাড়ীর নয়ারচর, চরবেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গার চরলুছনি, সেনপাড়া, পানাতিটারী ও রায়গঞ্জের পাঁচমাতাসহ শতাধিক গ্রাম। দুর্ভোগে পড়েছে প্লাবিত এ গ্রামের পানিবন্দী মানুষগুলো। ভেসে গেছে এসব এলাকার পুকুরের মাছ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারা। শনিবার সকালে পানির তোড়ে কালীগঞ্জে ওয়াবদা-ধনীরভিটা রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রবল বেগে ঢুকছে বন্যার পানি। ফলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পানি উঠেছে নারায়নপুরের মাঝিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালারহাট আকবরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌদ্দঘুড়ি নুরানী মাদ্রাসা, কচাকাটার ইন্দ্রগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইন্দ্রগড় ব্যাপারীটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর কাটাজেলাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সারিসুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাপনা সরকারি প্রাথমিক, চর নুনখাওয়া সরকারি প্রাথমিক, ব্যাপারীরচর সরকারি প্রাথমিক, ফকিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারদিক প্লাবিত হয়ে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী তলিয়ে গেছে সাত হেক্টর আউশ ধান ক্ষেত, রোপা আমন বীজতলা ১৫ হেক্টর ও আট হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। এছাড়াও বন্যার্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত পাট কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘এরই মধ্যে বন্যার্তদের মাঝে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি।’