সিলেটের ১২ সদস্যের একটি পরিবার নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজো তাদের খোঁজ মেলেনি। কেউ জানেনা তারা কোথায় আছে বা কোথায় গেছে। আদৌ তারা বেঁচে আছে কিনা তাও কেউ জানেনা।
পুলিশের কাছে খবর রয়েছে- তারা নাকি আইএসে গেছে-তাই এ সম্পর্কে পুলিশের খোঁজাখুঁজির চাপ্টার অনেকটাই ক্লোজড। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, এ পরিবারের কোনো খোঁজ নেই। এই পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো জিডি করা হয়নি। তবে শুনেছি ওরা আইএসে গেছে। ওখানে গেলে কেউ আর সহজে ফিরে আসতে পারেনা বা খোঁজ নেয়ার সুযোগ নেই।
২০১৫ সালের মে মাসে বৃটেন প্রবাসী সিলেটের আবুল মোহাম্মদ আবদুল মান্নান (৭৫) পরিবারের ১২ সদস্যসহ নিখোঁজ হলে সিলেট তথা সারা দেশে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদের সন্ধানে পুলিশ কিছুদিন অনুসন্ধান চালায়। পরে জানা যায়, গোটা পরিবার আইএসে যোগ দিয়েছে। শিশু নারীসহ গোটা পরিবার এরকম একটি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়ার বিষয়টি অনেককে ভাবনায় ফেলে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু দিন সিলেটে আলোচনা তুঙ্গে ছিল। পরে বিষয়টি অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু ইদানিং বেশ কিছু শিক্ষিত,মার্জিত ও বিত্তবৈভের মালিক সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবরে অনেকের মধ্যে নতুন করে সিলেটের সেই ১২ সদস্য নিখোঁজের বিষয়টি চলে এসেছে।
এদিকে ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন সিলেটের আবুল মোহাম্মদ আবদুল মান্নান । দেশে ও ব্রিটেনে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক তিনি। ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটি কাটাতে আসেন বাংলাদেশে। এক মাস দেশে অবস্থানের পর ওই বছরের ১ মে যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য তারা ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখান থেকে ১৪ মে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু ইস্তাম্বুল থেকে নিখোঁজ হন তারা। বৃদ্ধ আবুল মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মো. জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), ভাতিজা ও মেয়ের জামাই মো. আবুল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাইদা খানম (২৭), মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রোশনারা বেগম (২৪) এবং তাদের ৩ সন্তান (যাদের বয়স ১ থেকে ১১ বছর) নিখোঁজ হন।
সূত্র জানায়, এর আগে দেশে ফেরার পথে ৯ এপ্রিল হিথ্রো বিমানবন্দর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের ব্যাপক তল্লাশি করে। তাদের একদিন আটকও রাখা হয় সেখানে। পরিবারের নারীরা বোরকা ও হাতমোজা, পা-মোজা পরার কারণে সে দেশের পুলিশের সন্দেহ হয় বলে জানিয়েছিলেন ওই পরিবারের এক স্বজন। তাই নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা দেশে আসতে পারেননি। পরবর্তী ফ্লাইটে ওই পরিবার বাংলাদেশে আসে।
ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, আবদুল মান্নান বয়স্ক লোক। তাদের আদি নিবাস ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে। আবদুল মান্নান সপরিবার লন্ডন যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। লন্ডন ও বাংলাদেশে তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। তাছাড়া তারা এতো বেশি শিক্ষিতও নন। এ ধরনের অশিক্ষিত মানুষরা সপরিবারে সিরিয়া যাবে বলে মনে হয় না। বাড়িতে তার দুই ভাই লুলু মিয়া ও লেবুল মিয়া রয়েছেন। লুলু মিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ।
স্থানীয় মাইজগাঁও গ্রামের জাহিদুর রহমান জানান, শুনেছি তারা লন্ডনে যাওয়ার পথে তুরস্ক থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে এখনো তাদের খোঁজ মেলেনি।