পক্ষপাতদুষ্ট বিএনপির এক নেতার কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উচাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক দিলদার হোসেন দীর্ঘ ১৮ বছরেও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। বেতন না পাওয়ায় ওই শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ।
অভিযোগে জানা গেছে, আদিবাসী অধ্যুষিত জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের উচাই এলাকায় ১৯৯৭ সালে “উচাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করা হয়। মো. দিলদার হোসেনকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। কমিটি ২০০০ সালে বিদ্যালটির মাধ্যমিক স্তরে এমপিও ভুক্তির জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষকদের নাম ডিজিতে পাঠানো হয়। ওই তালিকায় আটাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপির সংস্কার পন্থী হিসাবে এলাকায় পরিচিত আবু সালেহ মো. সামছুল আরেফিন আবু চৌধুরী, সে সময়ের ইউএনও আব্দুর রহিম ও পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার যোগসাজসে মোটা অংকের অবৈধ অর্থের লেনদেন করে ইংরেজী শিক্ষকের নাম বাদ দিয়ে শ্রেণী শাখা শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সময় জেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশাদ আলীও একই ধারার রাজনীতির ধারক বাহক হওয়ার কারণে তার এমপিও ভুক্তির কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তবে এখন পর্যন্ত ‘এমপিও ভুক্তির’ আশ্বাস অব্যাহত রেখে কালক্ষেপণ করেই চলেছেন। এরই মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ পাওয়া আরো তিন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত না করে শ্রেণী শাখা শিক্ষকদের মাধ্যমিক স্তরে এমপিও ভুক্ত করায় ওই শিক্ষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সরকারি চাকরির বয়সসীমাও শেষ হয়ে যাওয়া এ বিদ্যালয়ে তাদের চাকরি বহাল থাকবে কীনা তাও এখন একরকম অনিশ্চিত বলে আশঙ্কায় রয়েছেন।