মোরেলগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগে মামলা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবু হানিফকে হত্যার ঘটনায় ২০ দিন পর মামলা হয়েছে।
 
সোমবার আবু হানিফের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ,যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
 
অভিযোগে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আবু হানিফ (৩৮) ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে ৪ জুলাই রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত পৌণে ১২টায় বের হয়ে আর ফিরেননি। রাতে আবু হানিফ দোকান থেকে বের হলে ভাইজোড়া গ্রামের সত্তার খানের ছেলে রফিক খান পরিকল্পিতভাবে মোটর সাইকেলে করে হোটেল হালিমে নিয়ে যায়। সেখানে মধ্যরাত অবধি হোটেলের ম্যানেজার শাহিনের কক্ষে  আড্ডা দেয়। সেখান থেকে রফিক ও শাহিন ব্যবসায়ী আবু হানিফকে পৌর পার্ক এলাকার নদীর তীরে নিয়ে যায়। নদীর তীরে পূর্ব থেকে অবস্থানরত আরো চারজন মিলে আবু হানিফকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেয়। এ সময় জনৈক এক লোক বিষয়টি দেখা ফেলায় লাশ নদীতে না ফেলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে কাপুড়িয়া পট্রির সাইমুম গার্মেন্টসে বেঁড়া কেটে ভিতরে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে আবু হানিফের লাশ সম্পূর্ণ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি দোকান পুড়ে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। পরের দিন সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুড়ে যাওয়া হানিফের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে। ১২ জুলাই পুলিশ লাশ ভস্মীভূত এলাকা পরিষ্কারের সময় আবু হানিফের ব্যবহৃত চাবি উদ্ধার করে। এরপর আবু হানিফের স্ত্রী নুরুন্নাহার মোরেলগঞ্জ থানায় মামলার জন্য গেলে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে মামলা নেয়নি। এমনকি এ মামলার প্রধান আসামি রাফিককে ১৭ জুলাই আটক করলেও পুলিশ তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার চুরির পুরানো একটি মামলার আসামি দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। পরে বাধ্য হয়ে আবু হানিফের স্ত্রী নুরুন্নাহার বাদী হয়ে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে। এতে রফিক খান (৩৮), লতিফ হাওলাদারের ছেলে শাওন (৩০), মৃত প্রফুল্ল পোদ্দারের ছেলে ধলু পোদ্দার (৪০), কালু পোদ্দার (৪৮), আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে জিয়া (৩৭), হালিম হোটেলের ম্যানেজার খাউলিয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেল শাহিনকে (৩৬) আসামি করা হয়। আসামিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রদলের নেতা ও কর্মী।
 
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘আদালতের কপি তারা এখনো হাতে পায়নি। তবে অঙ্গার লাশটি আবু হানিফের কিনা তা নিশ্চিত হতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।