এতিমদের উন্নয়নে চাই সামাজিক নিরাপত্তামূলক বহুমুখী কর্মসূচি

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে অবশ্যই দেশের এতিমদের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণে সামাজিক নিরাপত্তামূলক বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ, আয়বর্ধকমূলক কাজে এতিম পরিবারকে সহায়তাকরণ এবং জাতীয় বাজেটে এ জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা জরুরি। গত বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এতিম শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণে পরিবারের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি বলেন, শিশুদের ভরণপোষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার এতিমখানা শব্দটি পরিবর্তন করে বর্তমানে শিশু পরিবার নামে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সরকার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বেসরকারি এতিমখানার প্রায় ৬২ হাজার এতিম শিশুকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদান করা হচ্ছে। দরিদ্র এতিম শিশুদের মানবসম্পদে পরিণত করাই ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত এতিম পবিরারের উন্নয়নে কার্যক্রমটির কলেবর বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সকল বেসরকারি সংস্থাকে আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ওআইসি ঘোষিত ‘এতিম দিবস (১৫ রমজান)’ পালনের জন্য ইসলামিক রিলিফ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রসংশনীয়। এ ব্যাপারে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিবে। 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব আইনুল কবীর বলেন, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় প্রায় ৭ হাজার শিশু ক্লাব পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, এতিম শিশু ও তাদের পরিবারের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আকমল শরীফ বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় ৭০০ এতিম শিশু ও তাদের পরিবারের মর্যাদা ও সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৪ বছর মেয়াদি ‘অল্টারনেটিভ অরফান ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম থ্রু সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এই প্রকল্পটি এ বছর ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে ব্রিটিশ ওভারসিজ এনজিওজ ফর ডেভেলপমেন্ট (বন্ড) অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। তিনি বলেন, কমিউনিটি ভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে এতিম শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করা সময়ের দাবি।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক এনামুল হক সরকার। আরো বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. হায়দার আলী মিয়া, উলিপুর উপজেলার উলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুমারী দীপা রানী সরকার এবং অপুয়ার খাতা গ্রামের বিধবা রওশন আরা প্রমুখ।