কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বাউল ফকির লালন শাহের বার্ষিক স্মরণোত্সব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে মরমি গানের সুরে সুরে মেতে উঠেছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। ভক্ত-অনুসারী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় লালন মাজার এখন মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশসাক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।
আলোচনা শেষে রাতভর চলে লালন গীতির আসর। লালনের মানবতাবাদী গানে হূদয় ছুঁয়ে যায় দর্শক-শ্রোতাদের। সুরের মূর্ছনায় লালন সংগীতের এ আসর হাজার হাজার দর্শনার্থী দারুণভাবে উপভোগ করেন। সুরের মূর্ছনায় লালন সংগীতের এ আসর হাজার হাজার দর্শনার্থী দারুণভাবে উপভোগ করেন। কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে গানের মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও অডিটোরিয়ামের নীচতলায় উন্মুক্ত চত্বরে বাউলদের সাধুসঙ্গ ও খণ্ড খণ্ড গানের আসর দর্শক-শ্রোতাদের যেন এনে দেয় আলাদা আনন্দ-বৈচিত্র্য। এখানে যেন পার্থিব সমস্ত কিছু ভুলে মরমি গানের সুরের মধ্যে লালনের আধ্যাত্মিকতাকে খুঁজে পেতে উন্মত্ত বাউলরা। একতারা-দোতারা, ঢোল, বাঁশি ও অন্য বাদ্যযন্ত্রের বাজনার তালে তালে বাউলরা গান গেয়ে চলেছন অবিরাম।
‘বাড়ির পাশে আরশী নগর সেথা এক পড়শী বসত করে/ মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই কুল হারাবি / মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি / সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন/ এলাহি আলামিন গো আলা, বাদশা আলমপনা তুমি’ আরো অনেক লালন সংগীত পরিবেশনার সময় হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা সুরের মূর্ছনায় যেন উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠেন। গানের আসর ছাড়াও মরা কালীগঙ্গা নদীর মাঠের চারপাশ জুড়ে বসেছে লালন মেলা। আজ শুক্রবার তিনদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
উল্লেখ্য, ফকির লালন জীবদ্দশায় দোল পূর্ণিমা তিথিতে ভক্ত-শিষ্যদের নিয়ে গান-বাজনা করতেন, সেই ধরাবাহিকতায় পালিত হয়ে আসছে বার্ষিক স্মরণোত্সব।