রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার আগে জঙ্গিরা গাইবান্ধার দুর্গম চরে প্রশিক্ষণ নেয়। এই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি রায়হান কবির। সে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করত। আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল হত্যার ঘটনাতেও জড়িত ছিল এই রায়হান।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অষ্টম জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, গত বছর ৪ নভেম্বর আশুলিয়ার বারুইপাড়া এলাকার একটি পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় জঙ্গিরা ছুরিকাঘাতে এক কনস্টেবলকে হত্যা ও চারজনকে আহত করে।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ থেকে জঙ্গিদের (রায়হানসহ আট জন) পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা সবাই দুই থেকে আড়াই বছর আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। জঙ্গিদের ভাষায় ‘হিজরত’ করেন। তিনি বলেন, রায়হান কবিরের ছদ্মনাম তারেক। সে আশুলিয়ার বারুইপাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিল এবং পুলিশের খাতায় তার নাম লেখা রয়েছে তারেক বলে। তাকে পুলিশ খুঁজছিল।
মনিরুল ইসলাম বলেন, রায়হান কবির গুলশান হামলাকারীদের প্রশিক্ষক ছিল। গুলশানে হামলার আগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের একটি চরে সাতজনকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে গুলশান হামলাকারীরাও ছিল। তাদের দুই প্রশিক্ষকের একজন এই রায়হান ওরফে তারেক। এ বছরের প্রথম দিকে জেএমবির কয়েকজন সংগঠক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর সংগঠনটির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিল সে।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, পরিচয় পাওয়া নিহত আট জঙ্গির মধ্যে তিনজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। এর মধ্যে একজন পাস করে বেরিয়ে গেছে। দুজন পড়ছিল। অপর তিনজন মাদ্রাসার ছাত্র, একজন স্বল্পশিক্ষিত ও একজন নোয়াখালী সরকারি কলেজে পড়ত।
উল্লেখ্য, রাজধানীর কল্যাণপুরে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযানে গিয়ে সোমবার রাতে হামলার মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখানে সোয়াটের বিশেষ অভিযানে (স্টর্ম-২৬) নিহত হয় ৯ জঙ্গি। তাদের মধ্যে ৭ জনের আঙুলের ছাপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহূত আঙুলের ছাপ মিলিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ। এরা হলো: দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ, পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম, ঢাকার ধানমন্ডির তাজ-উল-হক রাশিক, গুলশানের আকিফুজ্জামান খান, বসুন্ধরার সেজাদ রউফ অর্ক, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান এবং নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন। এদের মধ্যে সেজাদ রউফ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এই যুবক গুলশানে হামলাকারী নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের নাতি। সে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। অর্ক এবং রাশিকও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর রায়হান, আব্দুল্লাহ ও নাঈম পড়াশোনা করেছে মাদ্রাসায়।