টেকনাফে ‘গোপন বৈঠক’: ১১ জনের বিরদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘গোপন বৈঠককালে’ আটক চারজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
 
রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক সৌদি নাগরিক ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে।
 
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার আটক চারজনের মধ্যে তিনজনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকিরা পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।”
 
ওসি জানান, আটক সৌদি নাগরিক আবু সালেহ আল আহমেদ গাম্মীকে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটেলিয়ানের দফতরে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে ধরনের নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
শনিবার দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার ছৈয়দ করিমের বাড়িতে ‘গোপন বৈঠক’ চলাকালে পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে গাম্মীসহ চারজন আটক হন। বাকি তিনজন হলেন, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরি পাড়ার এক মাদ্রাসার পরিচালক ছালাউল ইসলাম (৫০), বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার ছৈয়দ করিম ও টাঙ্গাইলের বাশাইল উপজেলার হাবাবিল পাড়ার মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
 
আরএসও নেতা ছালাউল ইসলাম রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার আসামি। আরএসও নেতা ছালাউল ইসলাম রামুর বৌদ্ধ পল্লিতে হামলার আসামি। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) নেতা ছালাউল ২০১৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক পাকিস্তানিসহ পাঁচজনের মধ্যে ছিলেন। রামুতে বৌদ্ধ পল্লিতে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
 
এছাড়া ছৈয়দ করিম টেকনাফ উপজেলার চেয়ারম্যান জাফর আলমের বেয়াই। শনিবারের ‘গোপন বৈঠকে’ জাফর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও ছিলেন বলে বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানিয়েছিলেন। “অভিযানকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈঠকে সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন ও বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজ উদ্দিন, আরএসও নেতা হাফেজ ছালাউল ইসলাম ও সৌদি নাগরিক আবু সালেহ আল আহমেদ গাম্মীসহ অনেককে দেখতে পান। এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য বদিসহ উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা টাস্কফোর্সের সদস্যদের বাধা দেন এবং টানা-হেঁচড়া করে আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান বলে ওই বিজিবি কর্মকর্তা জানান।
 
তবে সংসদ সদস্য বদি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, `ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে আমি ওই চারজনকে সরিয়ে নিতে বিজিবি সদস্যদের অনুরোধ করি।'
 
আওয়ামী লীগ থেকে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য বদির নাম ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাতেও এসেছে। প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় তার বিচার চলছে ঢাকার একটি আদালতে।
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিনের নামও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সন্দেহভাজনদের তালিকায় এসেছে।