শিল্পকলায় ‘বাঘযাত্রা’

 
শিল্পী নাজির হোসেন ‘বাঘ নাজির’ হিসাবেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন শিল্প রসিকদের কাছে। বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার পটচিত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আঁকেন শিল্পীরা। শিল্পী নাজির সেই বাঘকে অবলম্বন করেই তার নতুন শিল্পযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। বন্য বাঘের প্রতি টাইগার নাজিরের গভীর আবেগ রয়েছে এবং তিনি ক্যানভাসে রঙ-তুলির ছোঁয়ায় তা তুলে ধরছেন। এ যাবত্ তিনি বাঘ নিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি চিত্র এঁকেছেন। সম্প্রতি বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১৬ উপলক্ষে ইউএসএইড-এর আয়োজনে শিল্পী নাজিরের চিত্রকর্ম নিয়ে ‘বাঘ যাত্রা’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির ফাইন আর্ট গ্যালারিতে সপ্তাহব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী শেষ হবে ৫ আগস্ট।
 
শিল্পী নাজির বলেন, নিজের একান্ত আগ্রহ থেকেই এই শিল্পে আসা। লক্ষ্য ছিল- যেকরেই হোক আমি আমার শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশকে তুলে ধরব। আমার ধ্যান জ্ঞান সবই এখন এই বাঘকে ঘিরে। বাঘ রক্ষা করতে আমার কর্ম অব্যাহত থাকবে।
 
গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাঘ যাত্রা’র উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএসএইড -এর বেঙ্গল এ্যাক্টিভিটির চিফ অব পার্টি গ্যারি এফ. কলিন্স।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লিয়াকত আলী লাকি বলেন, ‘ক্রমশ বাঘের সংখ্যা কমার খবর পেয়ে আমি বিচলিত না হয়ে পারিনি। আমরা আজ বাঘ রক্ষায় এগিয়ে না এলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ওয়াইল্ড টিমের সিইও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাঘের জাতি। বাংলার বাঘ রক্ষায় আমাদের সবাইকে বাঘের মত এগিয়ে আসতে হবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএসএইড -এর বেঙ্গল টাইগার অ্যাকটিভিটি এর চিফ অব পার্টি গ্যারি এফ. কলিন্স বলেন, ‘বাঘ বাংলাদেশের প্রতীক। সেই বাঘ আজ ধ্বংসের মুখে। যার মূল কারণ মুষ্টিমেয় মানুষের লোভ। এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।