কালীগঞ্জ হাটে-বাজারে, রাস্তার পাশে অবৈধভাবে অবাধে চলছে দাহ্য পদার্থ পেট্রোলের ব্যবসা। রাস্তার পাশে, টং দোকানে, চায়ের দোকানে কিংবা মুদির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল। আর এসব স্থান থেকে পেট্রোল ক্রয় করে ঠকছে ক্রেতারা।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক বাজার ও রাস্তার মোড়ে বিক্রি করা হচ্ছে দাহ্য পদার্থ পেট্রোল। সরাসরি খুচরা ব্যবসায়ীরা পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল ক্রয় করে বিক্রি করছে। তাদের নেই কোনো অনুমোদন। পেট্রোল পাম্প থেকে তারা সরকারি দরেই ক্রয় করে নিচ্ছে। আর দোকানে গিয়ে বিক্রি করছে ১০০ টাকা লিটার। সাধারণত পেট্রোল পাম্প থেকে ১০০ টাকায় ১.৬ লিটার পেট্রোল দেওয়া হয়। খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে এভাবে খোলাবাজারে পেট্রোল বিক্রির অনুমতি না থাকলেও এগুলো মানছেন না পেট্রোল পাম্পগুলো।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ১২/১৫টির মতো পেট্রোল পাম্প রয়েছে। যেগুলো মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের পাশেই অবস্থিত। এছাড়াও কয়েকটি লাইসেন্সধারী তেল বিক্রির ডিলার রয়েছে। সরকারি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর ডিলারশিপ নিয়ে এসকল পেট্রোল পাম্পগুলো পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সংগ্রহ করে। এবং নিজের ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের চালকদের কাছে মেমো দিয়ে বিক্রি করার কথা। কিন্তু তারা খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রকাশ্য বোতলে ভরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে দাহ্য তেল পেট্রোলের অপব্যবহার দেখেছে সাধারণ জনগণ। খোলাবাজারে পাওয়া যাওয়ার কারণে সেই সময় দুর্বৃত্তরা ক্রয় করে বিভিন্ন যানবাহনে পেট্রোল ঢেলে নাশকতা করে যান মালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি করেছিলো। খোলবাজারে এসব পেট্রোল পাওয়াই শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ যে কেউ চাইলেই পেট্রোল ক্রয় করতে পারছে।
সাংবাদিক ও শিক্ষক সাবজাল হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত মোটরসাইকেলে চলাচল করেন। সাধারণত পেট্রোল পাম্প থেকেই পেট্রোল সংগ্রহ করেন। তবে মাঝে মাঝে রাস্তার মাঝে তেল ফুরিয়ে গেলে রাস্তার পাশে খোলাবাজার থেকে পেট্রোল ক্রয় করে থাকেন। খোলাবাজারে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বেশি নিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এমনও অভিযোগ আছে পেট্রোলের সাথে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেরোসিন ভেজাল দিয়ে বিক্রি করছে।
এ ব্যাপারে বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা মতামত দিতে রাজি হননি।
পেট্রোল ব্যবসায়ী আমিনুল জানান, তিনি প্রতিদিন গড়ে ২০ লিটার পেট্রোল বিক্রি করেন। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তিনি এই পেট্রোল সংগ্রহ করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ সহকারী পরিচালক সুচন্দন মণ্ডল জানান, তথ্য পেয়েছি জেলার অনেক বাজারে, রাস্তার পাশে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে দাহ্য পদার্থ পেট্রোল। তিনি বলেন, দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য লাইসেন্স নিতে হয় কিন্তু অধিকাংশ বিক্রেতাই অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সুচন্দন মণ্ডল আরো জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন এর অপব্যবহার না হয় তার জন্য দুই-একদিনের মধ্যে জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। বন্ধ করা হবে এসব পেট্রোল বিক্রি।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে এবং যাতে অবাধে দাহ্য পদার্থ পেট্রোল যত্রতত্র বিক্রি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।