ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি বাড়ছে

ঢাকার আশেপাশে ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে মেঘনায় পানি বাড়ছে। অন্যদিকে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে নদ-নদীতে পানি কমছে। উত্তরাঞ্চলে বানভাসি মানুষ এখনো বাস করছে খোলা আকাশে নিচে। তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ছড়াচ্ছে পচা দুর্গন্ধ। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া পূর্বাভাসে বলেছে, ঢাকার আশেপাশের তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা প্রভৃতি নদী সমূহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশের চলতি বন্যায় আওতাভূক্ত ১১ নদ-নদীর ১৪ পয়েন্টে পানি কমেছে। এর বেশিরভাগই উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে। অন্যদিকে মেঘনা ও শীতলক্ষায় পানি বেড়েছে। চাঁদপুরে মেঘনায় পানি বেড়েছে ৩৪ সে.মি.। এরফলে চাঁদপুর ও ভোলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যার পানি মেঘনা হয়ে সাগরে নামছে। তবে জোরালো জোয়ারের কারণে পানি নামার গতি ধীর। যে কারণে প্লাবিত হচ্ছে আশেপাশের অঞ্চল।
 
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বন্যার পানি ও মেঘনায় অতিরিক্তি জোয়ারের পানির চাপে ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুর পয়েন্ট, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী এবং লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ এলাকায় পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে ভোলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
 
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে রাস্তা-ঘাট ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন মূল সমস্যা। কৃষকদের এখনই প্রয়োজন আমন চারা।
 
কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনা নদীর পানি কমছে। তবে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।  ভোটুয়া মোড়ে  বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়েছে।
 
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। অনেকের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখনও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ফুলছড়ি উপজেলার দু’টি বাঁধ ধসে যাওয়ায় পানি নামতে পারেনি এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১০ ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। হাট বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।