শিশু গৃহকর্মীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

 
দিনাজপুরে জুই (১২) নামে এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সে অ্যাডরুক ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ আলমগীর আলম ও তার স্ত্রী কুদরত উন নাহারের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতো।
 
জানা গেছে, ১০ দিন আগে জুইয়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্মম নির্যাতন চালায় ওই দম্পতি। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও একটু চিকিত্সাও পায়নি মেয়েটি। এমনকি ঘটনার বিষয়টি তার পরিবারকেও জানানো হয়নি। মারা যাওয়ার পর শিশুটিকে রাতেই পরিবারের হাতে সোপর্দ করে তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
 
নিহত জুই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কুড়ালিপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন জালালের মেয়ে।
 
স্থানীয়রা জানান, জুইয়ের মৃত্যুর পর আলমগীর বোদা উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগের নেতাদের ম্যানেজ করে শিশুটিকে গ্রামের বাড়ি কুড়ালীপাড়ায় নিয়ে আসে। সেখানে শিশুটির ঝলসানো বিকৃত চেহারা দেখে পরিবারের লোকজনসহ পাড়া প্রতিবেশিরা চমকে উঠে। এ সময় ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন আলমগীর ও তার স্ত্রীকে আটকে রেখে উত্তম মধ্যম দেয়। পরে যুবলীগ নেতা গোলাম ফারুক তাদেরকে উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে আসে।
 
ওই নেতারা ৩ লাখ টাকার দফারফা করে দিনাজপুর ও বোদা থানায় বিষয়টি না জানিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত না করে তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার রাতেই শিশুটির লাশ দাফন করে।
 
এ বিষয়ে আলমগীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ করার সময় জুইয়ের উপর গরম পানি পড়েছে। তবে চিকিত্সা না কারা বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
 
বিষয়টি পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল, পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়। কিন্তু ঘটনাটি যেহেতু দিনাজপুরের এ কারণে তাদের কিছুই করার নেই বলে তারা জানান।
 
বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে শিশুর অভিভাবকরা কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা গোলাম ফারুক সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইলে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।