হাড়িখালী আশ্রয়ণ প্রকল্প

ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ভোগে বসবাসকারীরা!

হাড়িখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বসবাসকারীদের।

হাড়িখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্যে অনেক আগে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল ২৪টি টিনের ঘর। এসব ঘরে ২৪০টি পরিবারের বসবাসের সুবিধা আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ সংস্কার না করায় টিনের ঘরগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। টিনের বেড়া এবং উপরের চালের টিনের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে প্রায় সব ঘর দিয়ে পানি পড়ে। আবার ঘরের টিনের বেড়াও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে কুকুর বিড়াল ঘরে প্রবেশ করে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের পয়নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় ২৪টি টয়লেট। এছাড়া পানির চাহিদা পূরণে ১১টি পুকুর খনন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সকল প্রকার সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত হচ্ছে। প্রকল্পের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আঠারোবেকী নদী। কিছুদিন আগে ওই নদী খনন করে প্রকল্পের দক্ষিণ পাশে নির্মিত ঘরের সঙ্গে মিশিয়ে নদীর মাটি ফেলে স্তূপ করা হয়েছে। ফলে ওইসব ঘরে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রকল্পে বসবাসকারী মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহজাহান শেখ জানান, নদী থেকে বালু তুলে কয়েকটি পুকুর ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। চার/পাঁচটি পুকুর ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থা। চৈত্র মাসে পুকুরগুলো শুকিয়ে যাবে। বাথরুম ও ঘরগুলোর টিন নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বসবাসকারী শেফালী বিশ্বাস জানান, টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে, বাথরুমের অবস্থা খুবই জীর্ণ, মাটি ফেলে কয়েকটি ঘর ঢেকে দিয়েছে। খুব কষ্টের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে বাস করছি।

বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মুহূর্তে কিছু অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আগামীতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেন, এ প্রকল্পে বসবাসকারীদের দুর্দশা নিরসনে সকল প্রকার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিটন আলী জানান, এখানকার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। সেভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দের জন্যে আবারও আবেদন দেওয়া হবে।