চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা ও জমির খতিয়ানপত্র মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিলেন রাউজানের বাসিন্দা একটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক প্রদীপ শীল। গত বুধবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মীরের খীল গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তা তুলে দেন প্রদীপ শীল।
রাউজান পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক প্রদীপ শীল ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক হয়ে মোটরসাইকেলযোগে রাউজান সদরস্থ বাড়িতে ফিরছিলাম। পথে হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকায় পৌঁছলে সড়কের উপর একটি কাগজ মোড়ানো প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে আশ-পাশে কেউ না থাকায় কুড়িয়ে নেই। বাড়িতে এসে টাকার পরিমাণ ও জমির কাগজসহ প্যাকেটটির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাত্ক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি জানাই। স্ট্যাটাসের সূত্রে টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ও জমির কাগজ তার হাতে তুলে দেই।’
টাকার মালিক ওমান প্রবাসী তৌহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গত ৯ মার্চ ওমান থেকে দেশে ফিরে বাড়িতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণের জন্য ১৮ মার্চ মুরাদপুর ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে টাকাগুলো উত্তোলন করে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে টাকাগুলো হারিয়ে ফেলি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। টাকাগুলো হারিয়ে আমার সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। কল্পনাও করতে পারিনি ফেরত পাব। পরে আমার পরিচিতজনের মাধ্যমে জানতে পারি সাংবাদিক ভাইয়ের ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কথা।’
রাউজান পৌর প্যানেল মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রদীপ টাকা পেয়ে ফেসবুকে ঘোষণার মাধ্যমে মালিকের কাছে টাকা ফেরত দিয়ে সততার যে নজির স্থাপন করেছেন তা নিয়ে রাউজানবাসী গর্বিত। টাকা তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন মীরখীলের বাসিন্দা বশির উদ্দিন, শাহ আলম, মো. কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। এদের মধ্যে শাহ আলম জানান, এই সময়ে পাঁচ টাকা হারিয়ে গেলেও পাওয়া যায় না, অথচ সাংবাদিক ভাই নিজে এসে পাঁচ লাখ টাকা ও কাগজপত্র দিয়ে গেলো।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে সাংবাদিক প্রদীপ শীল সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ ব্যাপারে প্রদীপ শীল বলেন, ‘টাকাগুলো কুড়িয়ে পাওয়ার পর কীভাবে তা আসল মালিকের হাতে তুলে দিতে পারি, তা ভেবে ফেসবুকে লেখি। টাকাগুলো প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে পেরে নিশ্চিন্ত হলাম। আমি মনেকরি, আমরা যার যার অবস্থান থেকে সততাকে ধারণ করে এই সমাজটাকে আরো সুন্দর করতে পারি।’