চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি আগে নাকি ২৯ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন আগে— এই নিয়ে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে সরব আলোচনা। তবে ছাত্রলীগের দাবি আগে কমিটি হোক পরে চাকসু নির্বাচন। অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, আগে চাকসু নির্বাচন হয়ে যাক। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও শাখা কমিটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনের পর এবার চাকসু নির্বাচন দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার হল প্রভোস্ট এবং প্রক্টরিয়াল বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার চাকসু নির্বাচন দেওয়ার লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ছয়বার চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়। এতে ভিপি নির্বাচিত হন নাজিম উদ্দিন ও জিএস হন আজিম উদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ মে ২০১৭ সালে দলীয় সংঘর্ষের জেরে চবি ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সাত মাস স্থগিত থাকার পর ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার দুই বছর পার হলেও নতুন কমিটি নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ।
চাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে চবি ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও বিভাগ শিবির মুক্ত হলেও জামায়াত ও মৌলবাদ মুক্ত হয়নি, এ জন্য ছাত্রলীগের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ের বিকল্প নাই। আর বিজয় নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি চাকসু নির্বাচনের আগে হওয়া জরুরি বলে মনে করি।
এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ইত্তেফাককে বলেন, চাকসু নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি হওয়া দরকার। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আমাদের নেতা মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন যা চাইবে আমরা তাই মেনে নিব।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজানুল হক চৌধুরী শোভন ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে যদি চাকসু নির্বাচন হয় তাহলে চিন্তা ভাবনা করে দেখবো কি করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই চাকসু নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তবে ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনাগুলো যদি প্রশাসন কঠোরভাবে দমন করতে পারে তাহলে আমি মনে করি চাকসু নির্বাচনটা ফলপ্রসূ হবে।
হঠাত্ করে চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের এ প্রদক্ষেপ কেন জানতে চাইলে চবি উপাচার্য ড. ইফেতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগে চাকসু নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে কিছুটা পরিবেশ আসছে। এছড়াও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চাকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ নেতৃত্ব বিকাশে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোরও দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চাকসু নির্বাচন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি চাকসু নির্বাচন এখন সময় উপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। তাই সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। তার আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মাধ্যমে কাজ শুরু করবো। এখন শুধু প্রাথমিক কাজ শুরু করছি।