দেশে নৌপথে অতি পুরনো ট্যাংকারে তেল পরিবহন

দেশে কয়েক যুগের পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাংকার দিয়ে চলছে তেল পরিবহন। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আইন ও নীতিমালা অনুসারে ২০১৫ সালের পরে সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট ট্যাংকারে তেল পরিবহন নিষেধ। কিন্তু তেল পরিবহনে এই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারগুলো পরিবেশ দূষণে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
দেশের পরিবহনকৃত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশ নৌপথে পরিবহন করা হয়। এই তেল পরিবহনের জন্য রয়েছে দুই শতাধিক ট্যাংকার। চট্টগ্রামে পতেঙ্গাস্থ ডিপো থেকে এসব ট্যাংকারে করে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তেল পরিবহনে নিয়োজিত ট্যাংকারগুলো নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। অনেক ট্যাংকার ৫০ বছরের পুরনো। জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। সিঙ্গেল হাল ও ডাবল হাল বিশিষ্ট দুই ধরনের তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে। কিন্তু সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট ট্যাংকারগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ট্যাংকার জরাজীর্ণ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে সহজে সাগরে তেল নির্গমন হতে পারে। অন্যদিকে তেল পরিবহনে নিয়োজিত ডাবল হলবিশিষ্ট ট্যাংকারের অধিকাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।  এ প্রসঙ্গে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার শফিকুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকার নতুন করে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে না। পুরনোগুলো চলাচলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
 
সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট ট্যাংকার সম্পর্কে একজন মাস্টার পাইলট জানান, এসব ট্যাংকার দেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। ট্যাংকারগুলো ত্রুটিপূর্ণ। জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। আবার নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত তেল পরিবহন করা হচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ ট্যাংকারগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই তালিকা চাপা পড়ে যায়। বিপিসি সূত্র জানায়, নৌপথে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির আওতায় ১৩৪টি কোস্টাল ট্যাংকার, ১৪টি শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার ও ৭২টি বে-ক্রুজিং শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার রয়েছে। এদের মধ্যে ৮২টি সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট ট্যাংকার।
 
কোস্টাল ট্যাংকারে করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত তেল বিপণন কোম্পানির প্রধান স্থাপনা থেকে গোদনাইল, ফতুল্লা, বরিশাল, ঝালকাঠি, আশুগঞ্জ, ভৈরব, চাঁদপুর ও দৌলতপুর ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়। পদ্মা অয়েল কোম্পানির তেল পরিবহনের বহরে ৫৪টি কোস্টাল ট্যাংকারের মধ্যে ৩০টি সিঙ্গেল হলবিশিষ্ট। এ প্রসঙ্গে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালক) নরেশ চন্দ্র দাশ ইত্তেফাককে বলেন,‘তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর মধ্যে ৫০ বছরের পুরনো ট্যাংকারও রয়েছে। পুরনো ট্যাংকারগুলো পর্যায়ক্রমে পরিবহনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার স্থলে নতুন উন্নতমানের ট্যাংকার ব্যবহার করা হবে।’
 
ইত্তেফাক/ এ এন