খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দেশে-বিদেশে অবস্থান করে জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে ও অর্থায়ন করছে। তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে ধ্বংস করা, অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়া। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তাদের এখন মূল টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতিনিধি ও নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজের যে অবস্থান তৈরি করছেন, এটাই তাদের ঈর্ষার মূল কারণ।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত আগস্ট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, একাত্তরের ঘাতকদের মধ্যে যারা কারাগারে যারা নিগ্রহ গ্রহণ করছেন, ফাঁসির দন্ড নিয়ে যারা অবস্থান করছেন এই সমস্ত লোকদের সন্তান ও পরিবারের যত অর্থসম্পদ রয়েছে সেগুলো তারা জঙ্গিদের পিছনে ব্যয় করছে। দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দেয়ার জন্য তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের হত্যা করছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে যখন জামায়াত ঢুকে গেল, তখনই তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা নষ্ট হয়ে যায়। কামরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ঘাতকদের পরিবারকে খুঁজে বের করতে হবে। এবং সেই সাথে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আর আনতে পারলে তাদের বড় ভাইদের ধরতে পারবো।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তে ওলামার সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, যে মতাদর্শ ১৯৭১ সালে রাজাকার ও আলবদর হিসেবে সৃষ্টি করেছিলো, সে মতাদর্শ তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মিসবাহুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।