একটা সময় দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে খেলে সর্বোচ্চ দশ থেকে পনের হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন ফুটবলাররা। তখনকার সময় পারিশ্রমিকের চেয়ে খেলাটাই বড় ছিল। এখন খেলা এবং পারিশ্রমিক দুটোই গুরুত্ব পেয়েছে। খেলোয়াড়রা পঞ্চাশ হাজার থেকে সত্তর হাজার টাকাও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
লিগ কমিটির সম্পাদক মহিদুর রহমান মিরাজ বললেন, ‘দশ হাজার টাকার বেশি চিন্তা করতাম না। আমি যতদূর জানি এখন প্রতি ক্লাবে চার থেকে পাঁচ জন ফুটবলার আছেন তারা ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। এটা ফুটবলের ইতিবাচক দিক। অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’ এক ক্লাব হতে আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে অন্য ক্লাবে চলে যাওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে লিগ কমিটির কাছে। সেই সব অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে ৭০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চুক্তি হয়েছিল। হাফ ডজন অভিযোগ জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন লিগ কমিটির সম্পাদক।
দুই বছর পর দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ আগামীকাল মাঠে গড়াবে। সিঙ্গল লিগ পদ্ধতিতে ১৩টি দল লড়াই করবে। ৩৯০ জন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। মাঝের দুই বছর লিগ হয়নি। লিগ নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে অনেক খেলোয়াড় বর্তমান অনুষ্ঠানরত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে (বিসিএল) ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। আবার কেউ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলতে চলে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগ এবং বিসিএল হতে দ্বিতীয় বিভাগে খেলার সুযোগ থাকলেও এবার সেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিগ কমিটির নতুন সম্পাদক মিরাজ। চ্যাম্পিয়নশিপের খেলোয়াড় দিয়ে খেলা হলে দ্বিতীয় বিভাগ জুনিয়র ফুটবলারদের জায়গা কমে যায়। নতুন উঠে আসা ফুটবলারদের জায়গা দিতেই বিসিএলের খেলোয়াড়দের জন্য দ্বিতীয় বিভাগের দরজা বন্ধ। মিরাজ বললেন, ‘বিসিএলের খেলোয়াড় কেন দ্বিতীয় বিভাগে খেলবে? দ্বিতীয় বিভাগের এই মঞ্চ উপর লেভেলের খেলোয়াড়দের জন্য নয়। তৃতীয় বিভাগ এবং নতুন ফুটবলাররা দ্বিতীয় বিভাগে খেলবে। এব্যাপারে ক্লাবগুলো আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। তা না হলে এটি সম্ভব হতো না। ক্লাবগুলো বিভিন্ন জেলা হতে খেলোয়াড় বাছাই করে আনে। সংকট হওয়ার কথা না।’
ক্লাবগুলোর নানা টালবাহানার কারণে লিগ সময়মতো মাঠে গড়ায়নি। শেষ পর্যন্ত গত নভেম্বরে লিগ হবে বলে বাফুফে ক্লাবগুলোকে ১ লাখ করে টাকাও দিয়েছিল। ক্লাবগুলো সংসদ নির্বাচনের কথা বলে পিছিয়ে যায়। দেরি দেখে অনেক খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নশিপে নাম লেখায়। দ্বিতীয় ক্লাব থেকে নেয়া আগাম অর্থ ফেরত দেয়। জাতীয় নির্বাচন শেষে ক্লাবগুলো পুনরায় বিসিএলের কথা বলে আরেক দফা পিছিয়ে যায়। কিন্তু বিসিএলের কোনো ফুটবলার নেয়ার সুযোগ না থাকায় পিছিয়ে যায় ১৩ ক্লাবের অধিকাংশ। তবুও ভালো লিগ শুরু হচ্ছে, নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে, খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলো হচ্ছে ঃ টঙ্গী ক্রীড়া চক্র, পূর্বাচল পরিষদ, উত্তরার আজমপুর ফুটবল ক্লাব, লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাব, সিটি ক্লাব, সমাজ কল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদ মুগদা, ইস্ট এন্ড ক্লাব, বিজিপ্রেস, শান্তিনগর ক্লাব, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, বিকেএসপি, খিলগাঁও ফুটবল একাডেমি এবং গৌরীপুর স্পোর্টিং ক্লাব।