বকশীগঞ্জে ভারতীয় বুনো হাতির তাণ্ডব, আহত ৪

ভারত সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জের একটি গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে ভারতীয় বুনো হাতির পাল। প্রায় ২০টি বসতঘর, আসবাবপত্র, গাছপালা তছনছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে হাতিগুলো। হাতির আক্রমণে আহত হয়েছে অন্তত ৪ জন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সীমান্তবর্তী ৫ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মধ্যে ‘হাতি আতঙ্ক’ বিরাজ করছে।
 
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় এক পাল বুনো হাতি সীমান্তবর্তী যদুরচর এলাকার লোকালয়ে এসে হাজির হয়। এ সময় হাতিগুলো বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে হামলা চালায়। রাতভর            হামলা চালিয়ে হাতিগুলো যদুরচর গ্রামের শফিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, দুলা মিয়া, নুর ইসলাম, আবদুল হামিদ, মনির হোসেন, আংগুরী বেগম, নুরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক ও রহিম মিয়ার ২০টি বসতঘর, আসবাবপত্র তছনছ করে, প্রচুর গাছপালা ভেঙে ফেলে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এ ছাড়া ঘরের ভেতর থাকা ধান, চাল খেয়ে সাবাড় করে হাতির পাল। রাতভর হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে যদুরচর এলাকার মানুষ। এ ঘটনায় যদুরচর ছাড়াও সীমান্তবর্তী সাতানিপাড়া, টিলাপাড়া, শোমনাথ পাড়া ও লাউচাপড়া গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মধ্যে ‘হাতি আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাতির আক্রমণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে বুধবার সকালে পাহাড়ে ফিরে যায় হাতির পাল। গুরুতর আহত রত্না  বেগম (২৮) ও তন্বয়কে (১১) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পালে ৪০/৫০টি হাতি ছিল বলে জানিয়েছেন যদুরচর এলাকার  লোকজন। আবার কখন হাতির পাল আক্রমণ চালায় সেই ভয়ে রয়েছেন তারা।
 
বুধবার সকালে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ঐ এলাকা পরিদর্শন করেন ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ ৬০ হাজার টাকা অনুদান বিতরণ করেন।
 
ধানুয়া কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, মাঝে মধ্যেই ভারতীয় বুনো হাতি সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায়। এই হাতিই সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/ এ এন