সীমান্তের নাফ নদীর বেড়িবাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়ায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের প্রায় ২ শতাধিক চিংড়ি ঘের হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষায় পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানিতে নাফ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে মত্স্য ঘের প্লাবিত হয়ে চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মাছ চাষের সাথে জড়িত প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, চিংড়ি ঘের সংলগ্ন নাফ নদীর বেড়িবাঁধটি পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও শুধু আশ্বাসের বাণী নিয়ে তাদের অপেক্ষায় দিন গুনতে হয়েছে।
পালংখালী মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম উল্লাহ জানান, সরকার অনুমোদিত আনজুমান পাড়া আব্দুল লতিফ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালিত প্রায় ১৬১টি চিংড়ি ঘের কাগজে-কলমে উল্লেখ থাকলেও প্রায় ২ শতাধিক চিংড়ি ঘেরে মোটা অঙ্কের টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে নানা প্রজাতির মাছ উত্পাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন সমিতির ৬ শতাধিক সদস্য। একাধিক চিংড়ি চাষি জানান, বালুখালী, পশ্চিম বালুখালী, আনজুমানপাড়া, রহমতের বিল, নলবনিয়া, ধামনখালী, উলুবনিয়াস্থ চিংড়ি ঘের সংলগ্ন নাফ নদীর এ বেড়িবাঁধটির কারণে এখানকার চাষিরা প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়ে চিংড়ি চাষে উত্সাহ হারিয়ে ফেলছেন। তারা আরো জানান, শুষ্ক মৌসুমে চিংড়ি ঘের মালিকেরা নিজস্ব অর্থায়নে বেড়িবাঁধটি সংস্কার করলেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নাফ নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘেরগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে প্রচণ্ড খরতাপে চিংড়ির মড়ক ও বর্ষায় বন্যার পানিতে ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার ফলে অধিকাংশ চিংড়ি চাষি সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা কে এম শাহরিয়ার নজরুল জানান, পালংখালীর ১৬১টি চিংড়ি ঘের থেকে প্রতি মৌসুমে ৩৬০ মেট্রিক টন চিংড়ি উত্পাদন হয়ে থাকে। যেসব চিংড়ির অধিকাংশই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি নাফ নদীর বেড়িবাঁধের কারণে চিংড়ি চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চিংড়ি ও অন্যান্য প্রজাতির মত্স্য সম্পদ রক্ষার্থে নাফ নদীর বেড়িবাঁধটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শইবুর রহমান জানান, নাফ নদীর বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইত্তেফাক/ এ এন