বর্তমান সরকার প্রধান পরপর তিন মেয়াদে সরকার গঠন করেছেন। তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো পাঁচ বছর সফলভাবে সরকার পরিচালনা করেছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে যখন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তার আগের সরকার কৃষি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছিলো। তখন কৃষিতে অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত সার ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলো। তারই কুফল হিসেবে তখন সারাদেশে সারের দাবিতে ন্যায্য আন্দোলনরত ১৮ জন কৃষক পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন। দেশের সার্বিক কৃষি উন্নয়নের স্বার্থে কৃষক তার নিজের মাঠে আবাদ করার জন্য সার পেত না তখন। আর সেই সারের জন্য জীবন দিতে হবে এমন ইতিহাস শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বে বিরল। কিন্তু পরবর্তীকালে কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটির কী পরিবর্তন হয় তা অল্প কথায় বলা কঠিন।
শুধু সার নয় কৃষিতে সাফল্যের জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবদান রেখেছে। উন্নত জাত আবিষ্কার, বীজ উত্পাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, নতুন নতুন ফসলের জাত উত্পাদন প্রযুক্তিসহ সর্বোপরি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ইত্যাদি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। কৃষি ও কৃষকের জন্য অবদান রেখেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন আরো অনেক কৃষি বিজ্ঞানীর নাম অকপটে উল্লেখ করা যায়।
এখানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানী, সরকারি সম্প্রসারণ এজেন্সি হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি, বিআরডিবি ইত্যাদি এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা (কৃষি ও পরিবেশভিত্তিক এনজিও) একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষকপর্যায়ে কাজ করে থাকে। আর এসবক্ষেত্রে বর্তমান এই সরকারের সরাসরি প্রণোদনা, সহযোগিতা ও ভর্তুকির মতো জনবান্ধব কর্মসূচি তো রয়েছেই। এভাবে অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে কৃষিতে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়ে যেভাবে এমডিজি সফলভাবে অর্জিত হয়েছে তেমনি এসডিজিসহ সকল সূচকে দেশ এগিয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ যেখানে পুষ্টিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে। আর এমনটি করতে হলে কৃষিতে প্রযুক্তি নির্ভরতার বিকল্প নেই। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এখন পরিবেশসম্মত কৃষি যা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। মত্স্য সম্পদ হিসেবে ইলিশ মাছ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশেপাতি আমকে জিআই পণ্যের তালিকায় স্থান দিয়েছেন সরকার। পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেমন অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, কৃষির উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন ছাড়া কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি এখন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও তাই করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামকে শহরে পরিণত করার প্রত্যয়ের মধ্যেই কৃষির আধুনিকায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ইঙ্গিত রয়েছে। কাজেই আগামী দিনে এদেশের সরকার, কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি প্রযুক্তিবিদ, কৃষি পরিকল্পনাবিদ সমন্বয়ে কৃষি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং এগিয়ে যাবে দেশ।
n লেখক: কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয়
কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়