সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ‘বিসমিল্লাহ ক্লিনিকে’ ভুল চিকিৎসার শিকার রাজমিস্ত্রী যুবক মনিরুল ইসলাম টানা ৪২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেলেন। তিনি ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামের মৃত শামচুল সরকারের ছেলে।
শনিবার সকাল নয়টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান মনিরুল। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ক্লিনিকটির মালিক আব্দুর রহমানসহ দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে।
রোগীর পরিবার জানায়, ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামের মৃত শামচুল হকের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে রাজমিস্ত্রী মনিরুল ইসলাম (১৮) ৬ষ্ঠ। ২ জুলাই হঠাৎ মনিরুল পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে চিৎকার শুরু করে। তৎক্ষণাৎ তাকে বেলকুচির শেরনগরে অবস্থিত বিসমিল্লাহ আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে হাসপাতালের মালিক আব্দুর রহমান নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগী দেখেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মনিরুলের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে জানিয়ে কোনো বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে চাকুরিচ্যুত চিকিৎসক ডা. ইমাম আল নাজিমুল হক বিল্পব, মালিক আব্দুর রহমান ও ম্যানেজার ঝর্ণা খাতুন তার অপরারেশন করেন। অপারেশনের পর তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। মল পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে পেটের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ওই হাসপাতালে রাখার পর ১২ জুলাই কৌশলে ছাড়পত্র দিয়ে মনিরুলকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর তার অবস্থার আরো অবনতি হলে প্রথমে সিরাজগঞ্জে মেডিনোভা হাসপাতাল ও পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভুল চিকিৎসার শিকার মনিরুলকে ওই হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ভুল চিকিৎসার এ খবর ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। শুক্রবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই হাসপাতালে গিয়ে জরিমানা করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মালিকদের হাসপাতালের লাইসেন্স হাজির করতে বলে।
এরই মধ্যে শনিবার সকালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মনিরুল মারা গেলেন।
ইত্তেফাক/এসএসএমইউ