গুপ্তধন শিকারিদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পোল্যান্ডে নাৎসিদের হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তির স্বর্ণ বোঝাই ট্রেন। যদিও এই তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, গুপ্তধন শিকারিদের দমানো যাচ্ছে না।
গত আগস্টে দুই পোল্যান্ডে ভূপৃষ্ঠে নিচে থাকা বিষয় উদঘাটন করতে সক্ষম রাডার দিয়ে পোল্যান্ডের ওয়ালব্রাইখ শহরে মাটির নিচে নাৎসি যুগের একটি আর্মার্ড ট্রেন খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন দুই জন। পিওতর কোপার ও আন্দ্রেয়াস রিখটার নামের দুই বিজ্ঞানী জানিয়ে ছিলেন, রাডারের মাধ্যমে মাটির আট থেকে নয় মিটার নিচে সেই অনেকগুলো ট্রেনের বগি খুঁজে পাওয়া গেছে যা সব মিলিয়ে প্রায় ৯৮ মিটার (৩২০ ফুট) দীর্ঘ।
তারা অবশ্য রাডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বেশিরভাগই বিভিন্ন অস্ত্রের প্রোটোটাইপ। তবে স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী এসব ট্রেনে নাৎসিদের লুট করা সোনা, হীরা-জহরত ও মূল্যবান শিল্পকর্ম রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দিদের দিয়ে এই এলাকায় পরিখা খনন করা হয়। রাশিয়ার সেনাবাহিনী আক্রমণ করলে নাৎসিরা সেগুলো ট্রেনে বোঝাই করে মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলে।
IMG1
গুপ্তধন শিকারিরা বিগত সাত দশক ধরে এগুলো খুঁজে আসছে। কমিউনিস্ট যুগে পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর সন্ধানে অসংখ্য সন্ধান চালিয়েও কোনো কিছু খুঁজে পায়নি।
গুপ্তধনের এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিখ্যাত এজিএইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ জানিউজ মাদেজ বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত যে এখানে কোনো ট্রেন লুকোনো নেই। গ্রেভিমেট্রিক ও জিও রাডার স্টাডিজের ভিত্তিতে বলা যায় হয়তো একটা টানেল থাকতে পারে।
IMG0
তবে বিজ্ঞানীদের ভাষ্য পাত্তাই দিচ্ছে না গুপ্তধন শিকারিরা। মঙ্গলবার থেকে এই গুপ্তধন খোঁজার কাজ শুরু হবে। গুপ্তধন শিকারিদের প্রকল্পের মুখপাত্র আন্দ্রেই গাইক বলেছেন, এটা অনেকটা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতো বিষয়। আমরা যদি টানেলও খুঁজে পাই তাহলে এটি হবে বড় একটি সাফল্য, ট্রেনটি এই টানেলের মধ্যেই থাকতে পারে।
রাডারের মাধ্যমে এই ট্রেনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করা পিওতর কোপার বলেছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে আদৌ কোনো গুপ্তধন আছে কী না। মঙ্গলবার খনন শুরুর আগে সোমবার রাডারের মাধ্যমে আবারো এলাকাটি চষে দেখা হবে। এএফপি।
ইত্তেফাক/এসএসএ