যশোরের কেশবপুরে অবিরাম বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল নামক স্থানে টং ঘরে আশ্রয় নিয়েছে আড়াই শতাধিক পরিবার।
রবিবার সকাল থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য পরিবার কেশবপুর বালিকা বিদ্যালয় ও কেশবপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১৯ টন এবং কেশবপুর পৌরসভার পানিবন্দি মানুষের জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মৎস্য ঘের, সবজি, অবকাঠামো, ধানের আবাদ মিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৮৯ কোটি ৩৬ লাখ ১১ হাজার টাকা।
গত ৯ আগস্ট থেকে অবিরাম বর্ষণে কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রায় ৮০০ পরিবার সড়কের পাশের টং ঘর ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার তৌফিকুল ইসলাম জানান, অবিরাম বর্ষণে উপজেলার ১ হাজার ৮৩৮টি মাছের ঘের, ১ হাজার ১০২টি পুকুর প্লাবিত হযেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার দাস জানান, অবিরাম বর্ষণে ৩ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমির আউশ, আমন ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীন জানান, অবিরাম বর্ষণে উপজেলার ৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ মিলে ৪০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবীর জানান, ইতোমধ্যে কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে পানিবন্দিদের জন্য ২৪ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।