যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট সোমবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
জাতির পিতা ও ১৫ আগস্ট শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জীবনের বিশেষত যু্দ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনগর্ঠন ও বিশ্ব অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগও কর্মতৎপরতার চিত্র তুলে ধরা হয়।
IMG0
পাশাপাশি বিভিন্ন সময় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণসমূহ থেকে তার স্মরণীয় কিছু বাণীও প্রদর্শন করা হয়। প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস চত্বরে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র এবং বাণীর এই প্রদর্শনী আগামী এক সপ্তাহ চলবে।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রতীক। তিনি শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাই নন, স্বাধীনতা উত্তর আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ের তার প্রজ্ঞা রাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতার মর্যাদায় অসীন করেছে।
IMG1
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর রুপকল্প ২০২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ এর লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিশেষত সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া বিকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্টমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বিকালে জাতীয় শোক দিবস পালন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধুর গৌরবজ্জ্বল জীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভার পর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এ সময় গ্রিসে বাস করা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।