চাঁদাবাজি : খুলনায় সেই এসআই বরখাস্ত

কৌশলে নারী দিয়ে একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নিরালা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  
 
এদিকে, গ্রেফতারকৃত অপর চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে  বুধবার আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
 
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নগরীর নিরালা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহেল রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গত তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। পরে  তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
 
রমজান আলীর দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর নাফিউর রহমান জানান,  স্বপ্না আক্তার ওরফে রুনা ও সীমার ৫ দিন, রাজু শেখের ৩ দিন এবং বিকাশ এজেন্ট মো. আব্দুল হামিদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
 
প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগস্ট খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. রমজান আলীকে গ্রেফতারকৃত স্বপ্না আক্তার ওরফে রুনা বিপদে পড়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার  একটি বাড়িতে নিয়ে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যান। কিছ্ক্ষুণ পর তাদের সহযোগী সীমা, স্বপ্না, রাজু শেখ, মহিন আরা বেগম এবং স্থানীয় নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি (ইনচার্জ) এসআই সোহেল রানাসহ কয়েকজন ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে সীমাকে নগ্ন করে তার পাশে দাঁড় করিয়ে এসআই সোহেল রানা নিজের মোবাইলফোনে তা ভিডিও করেন।
 
পরে এসআই সোহেল রানা পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রমজান আলীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ অবস্থায় রমজান আলী তার স্ত্রীর মাধ্যমে এসআই সোহেল রানার নির্দেশ অনুযায়ী খুলনা সদর থানা সংলগ্ন বিকাশ এজেন্ট আব্দুল হামিদের নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। আরও ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি