বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে বেনাপোল বন্দরের মালামাল খালাসের কাজ।
আমদানিকারকরা সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পারায় দেশের বৃহত্তম বন্দরটিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট। বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকাতে হচ্ছে। জায়গার সংকটে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও ক্রেন মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বেশির ভাগ মেশিনারিজ আমদানি হয় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে আনলোড ও বন্দর থেকে খালাস নেয়া সম্ভব না। মোংলা বন্দর থেকে ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দরকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে সময়কার বহু পুরনো ক্রেন ও ফর্কলিফট মোংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এই বন্দরের কাজ চালানো হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় বর্তমানে এ বন্দরে একটিমাত্র ২৫ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফর্কলিফট রয়েছে। পাঁচ টনের ফর্কলিফট রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি অচল। ৪০ টনের ক্রেন রয়েছে একটি। এ ছাড়া ৩৫ টনের একটি, দশ টনের দুটি ও ১৯ টনের একটি ক্রেন রয়েছে। এসব ক্রেন অধিকাংশ সময় অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় ২৫ টনের ফর্কলিফটি অকেজো থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটছে মালামাল লোড-আনলোডে।
বন্দরের ১১ নম্বর গুদামের ইনচার্জ ফাররুক হাসান জানান, পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ক্রেনের মধ্যে দুটি সচল রয়েছে। ওই দুটি দিয়েই কোনোরকমে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। ক্রেন সংকটের কারণে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেনাপোল প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইনজিনের বিষয় তো! মাঝে-মধ্যে সমস্যা হতেই পারে। আমরা সব ক্রেন ঠিক করে দিচ্ছি।’
বেনাপোল বন্দরে গুদাম রয়েছে ৩৬টি। এছাড়া ওপেন ইয়ার্ড পাঁচটি, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড একটি, ট্রাকটারমিনাল আমদানি দুটি ও রফতানি একটি। এসব গুদামে পণ্য ধারণক্ষমতা ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু সব সময়ই বন্দরে ৭০-৮০ হাজার টন পণ্য মজুদ থাকে।
বন্দর ব্যবহারকারী সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোশিয়েশনের সভাপতি মীফজুর রহমান সজন জানান জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল রাখার জন্য একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামসহ ১৫টি গুদাম নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
বন্দরে জায়গা সংকটের কথা স্বীকার করে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল জানান, ক্রেন ফরর্কলিফট নষ্টের এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানি ও রফতানি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, ৩৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার বন্দরে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টন পণ্য ওঠানো-নামানো হয়। এসব পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ন্যূনতম সাতটি ক্রেন প্রয়োজন। বিপরীতে সচল রয়েছে দুটি ক্রেন । প্রতিদিন পণ্যবোঝাই ৩০০ ট্রাক লোড-আনলোডের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি দ্রত বন্দরের জায়গা ও ক্রেন সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
ইত্তেফাক/ইউবি