গ্রহাণু বা অ্যাস্টরয়েড হলো পাথর দ্বারা গঠিত বস্তু যা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। এদের আকার সাধারণত ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধের থেকেও কম হয় কিন্তু বেন্নু এর ব্যতিক্রম। দুই বছর আগে নাসা খোঁজ পেয়েছিল এই বেন্নুর। পৃথিবীর দিকে ক্রমাগত ধেয়ে আসা এই বেন্নু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নাসা বেন্নুর মুলুকে পাঠিয়েছিল মহাকাশযান ‘ওসিরিস-রেক্স’। এই ওসিরিস রেক্স নাসাকে জানাচ্ছে অভিনব সব তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি কনফারেন্সের ৫০তম সম্মেলনে এসব তথ্যের কথা জানিয়েছে নাসা।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বেন্নুর কক্ষপথে অবস্থান করছে ওসিরিস রেক্স। কিন্তু বেন্নুর পিঠ অসম্ভব উঁচু-নিচু প্রকৃতির। এতটাই উঁচু-নিচু, এতটাই আঁকাবাঁকা, এতটাই উথালপাথাল তার বুকে মাটি তুলে আনার জন্য বেন্নুর পিঠে নামব নামব করেও নামতে পারছে না নাসার মহাকাশযানটি। বেন্নুকে প্রদক্ষিণ করতে করতে কোথায় নামা যায় সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ওসিরিস রেক্স। কারণ মহাকাশযানটির ভয় বেন্নুর পিঠে অবতরণ করার সাথে সাথে বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ওসিরিস রেক্সের। তাই এমন একটি জায়গা খুঁজছে ওসিরিস রেক্স যেখানে অন্তত কিছুক্ষণ টিকে থাকা যায়। এরপর নাসার গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাটি তুলে আনতে চায় বেন্নু। বেন্নুর পিঠ থেকে তুলে আনা এসব তথ্য নিয়ে চার বছর পর ২০২৩ সালে পৃথিবীতে ফেরার কথা ওসিরিস রেক্সের।
ওসিরিস রেক্স জানিয়েছে, বেন্নু তার পিঠ থেকে ছোট ছোট কণাদের উড়িয়ে নিয়ে এমন এক মেঘের বলয় তৈরি করছে যা কি-না ঢেকে দিচ্ছে গ্রহাণুটিকে। বেন্নুর পিঠের প্রকৃতি দেখে ওসিরিস রেক্স ধারণা করছে, অতীতে বিশাল বিশাল উল্কা আছড়ে পড়তো এর পিঠে। আজো সেই স্মৃতিচিহ্ন বয়ে চলেছে গ্রহাণুটি।
ওসিরিস রেক্স মিশনের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর, টাকসনে আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফরাসি অধ্যাপক দাঁতে লরেত্তা জানিয়েছেন, বেন্নু যেন ফুঁ দিয়ে তার পিঠ থেকে ছোট ছোট কণাদের উড়িয়ে দিচ্ছে। সৌরমন্ডল সৃষ্টির পর গত ৫০০ কোটি বছর ধরে নিজেদের চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখেছে এসব কণা। সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণারাই বেন্নুর উপর তৈরি করছে ঘন মেঘ। -আনন্দবাজার