নলছিটিতে কলেজ ছাত্র ও কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ী খুন

ঝালকাঠির সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাকিব হোসেনকে (১৭) পিটিয়ে হত্যা ও কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মালিক মোঃ ছাদেক খুন হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

নলছিটি (ঝালকাঠি): ঝালকাঠির সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাকিব হোসেনকে (১৭) পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। বুধবার বেলা ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শহরের হাসপাতাল সড়কের কাওছার হোসেন সালমান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে। নিহত রাকিব পৌরসভার নান্দীকাঠি এলাকার মাসুম হোসেনের ছেলে।

আটককৃত সালমান হাসপাতাল সড়কের জাকির হোসেন সরদারের ছেলে। সে নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রেমঘটিত একটি বিষয়টি নিয়ে রাবিকের সঙ্গে সহপাঠী নাফিউল, সিহাব ও রাহাতের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে রাকিবকে মারধর করা হয়। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে উভয়কে ডেকে মীমাংসা করে দেয়। বুধবার সকালে বিক্ষুব্ধ নাফিউল ও তার সহযোগীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ক্রিকেট খেলছিল। রাকিব হোসেন একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করতে গেলে তারা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প ও ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় রাকিবের।

নলছিটি থানার ওসি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই শহরের হাসপাতাল সড়ক থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কাওছার হোসেন সালমান নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মালিক মোঃ ছাদেক খুন হয়েছেন।  মঙ্গলবার রাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে।  বুধবার  সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর থেকে নাজমুল হোসেন নামে ওয়ার্কসপের এক কর্মচারী পলাতক রয়েছে। নিহত ছাদেক  নাটোরের লালপুর থানার গধুয়া এলাকার কদ্দুস শেখের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাদেক হোসেন প্রতিদিনের মত মঙ্গলবার সকালে ওয়ার্কসপে যান। ওইদিন রাত ১০টার দিকে নিজ ওয়ার্কসপের ভেতরেই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বাজার পাহারাদার ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে স্থানীয় সফিপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমে্দ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের কর্মচারী নাজমুল হোসেন পলাতক রয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।