পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারকাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই নিহতের পরিবার ন্যায় বিচার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ওই মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়া ছরোয়ার হোসেন নামে এক আসামি আদালত থেকে অব্যাহতি না পাওয়ায় হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থাগিতাদেশ দিয়েছিল। যে কারণে মামলার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে।
তবে মামলার বাদীর দাবি, হাইকোর্টের দেয়া মামলার কার্যক্রম স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই মামলার বিচারকাজে এত বিলম্ব হওয়ার কথা নয়।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
পিরোজপুর পাবলিক প্রসিকিউটর খান আলাউদ্দিন বলেন, ‘মামলার বিচার কাজ বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে আদালতের কোনো হাত নেই। আসামিদের হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে দায়ের করা মামলার কারণেই বিচার কাজে কিছুটা দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।’
ঘটনার অবতারণা
২০১৩ সালের ২০ আগস্ট বিকালে কাউখালীর বেকুটিয়া গ্রামের নতুনবাজার-বিজয়নগর-কাউখালী সড়কের শেখবাড়ি মসজিদের কাছে গ্রামের সড়কে সংঘবদ্ধ একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেকুটিয়া গ্রামের হামিদ হাওলাদারের মেঝ ছেলে যুবলীগ নেতা এনামুল হককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই এমাদুল হক বাদী হয়ে ওই বছরের ২২ আগস্ট বেকুটিয়া গ্রামের মো. মামুন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখপূর্বক একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন, মামুন শেখ, ফিরোজ শেখ, বাবুল মল্লিক, মো. এনামুল মীর, মিজান শেখ, মো. রঞ্জু শেখ, কাইউম শেখ, মো. বশির শেখ, মানিক হাওলাদার ও কামাল পারভেজ ওরফে কামাল গাজী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বাকি ছয়জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহত দেয়া হয়। এরা হলেন, জাকির তালুকদার, দুলাল শেখ, জাকির মল্লিক, ছরোয়ার হোসেন হাওলাদার, হুমায়ন হাওলাদার ও ইসমাইল হোসেন মধু।
ছয় আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় মামলার বাদী পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল বাশার নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে সকল আসামিকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি আমলে নেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে পলাতকদের গ্রেফতার করা হয়েছে কীনা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য তাগিদ দেয়া হয়। এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ