নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত দুই সপ্তাহের টানা বর্ষণে মধুমতী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৩০টি বসতবাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি। তাই নদী ভাঙন কবলিত পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত দুই সপ্তাহে মধুমতীতে বিলীন হয়েছে লোহাগড়া গ্রামের তেতুলিয়া, কামঠানা নতুন পাড়া, কামঠানা সিকদার পাড়া, চরবগজুড়ি এবং করফা গ্রামের ৩০ বসতভিটা। এছাড়া ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি। তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীর তীরে ছাপড়াঘর তুলে কোনোমতে চলছে শিশুশিক্ষার্থীদের পাঠদান। গত দুই যুগ ধরে এ দুই গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলিজমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন-চার বারও ভাঙনের শিকার হয়েছে গ্রামের অনেক পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনের কবলে পড়া লোকজন অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি। অব্যাহত ভাঙন-আতঙ্কে দিশেহারা এসব গ্রামের বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে কেউ প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউবা রাস্তার পাশে ছাপড়া তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। নিঃস্ব হয়ে অনেকেই মানবেতর দিন যাপন করছেন।
তেতুলিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জয়তুন বেগম বলেন, ‘১৫ বছর বয়সে বউ হয়ে এ গ্রামে আসি। জমিজমাসহ শ্বশুর বাড়িতে সুখের সংসার ছিল। নদীর ভাঙনে সব হারিয়েছি।’
এ গ্রামের হামিদ মোল্লা বলেন, ‘প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ছিল। সব এখন নদীতে। এ বছরসহ তিনবার বসতবাড়ি নদীতে গেছে। এখন আমরা নিঃস্ব। পথের ফকির।’
স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. চান মিয়া মোল্লা জানান, সরকারি কোনো সাহায্য ক্ষতিগ্রস্তরা পাননি। বৃহস্পতিবার ইউপির সচিবের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে।
লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল শিকদার বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে দিনে দিনে এসব জনপদ বিলীন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আর্থিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘সাহয্যের জন্য আবেদন করতে বলেছি। আর ভাঙন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের নজরে আনা হবে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ