জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন হল নির্মাণ এবং বেদখল হওয়া হল উদ্ধারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ রবিবারও সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকতে দিলেও কাউকে কোনো ভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল বের করে। মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা ঘুরে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। পরে ক্যাম্পাসে থেমে থেমে মিছিল অব্যাহত রাখে তারা। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বাত্মক ধর্মঘট থাকলেও ২১ আগস্টের নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক খুলে দেয়া হয়। তবে কোন বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় হয়নি।
দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনকে আরো বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক হয়ে সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা বলেন, আমাদের আবাসিক সংকট নিরসন এবং পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের খালি হওয়া জায়গা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জবিকে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সরকার বা কোনো দায়িত্বশীল মহল থেকে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তাই আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আগামী কাল (আজ সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মাদ বলেন, সব বিভাগে ক্লাস না হলেও কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা হচ্ছে। শিক্ষকেরা ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসেন। একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে কি না, এটা শিক্ষার্থীদের ব্যাপার।
ইত্তেফাক/এএন