প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। এ ঘটনার পর থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা রেকর্ড না করে পুলিশ নিজেরাই জিডি করে। তারপরও কোন তদন্ত বা আসামি ধরেনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করে।

প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ৫ ছেলের মধ্যে ৪ ছেলে আহসান, হোসেন, সবুজ ও শান্ত বিদেশে কর্মরত। খোরশেদ মিয়ার নতুন বাড়িতে ১২ মার্চ গভীর রাতে ১৫-১৬ জনের একদল ডাকাত হানা দেয়। তারা পাকা ভবনের কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকে। খোরশেদ মিয়া, তার স্ত্রী রেজিয়া বেগম, ছোট ছেলে জাবেদ ও তিন পুত্রবধূকে মারধর করে বেঁধে ফেলে।তারপর তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ডাকাতদল ঘরের সবকয়টি কক্ষের আলমরির তালা ভেঙ্গে ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিনটি মোবাইল সেট, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

পরদিন খোরশেদ মিয়ার শ্যালক আবদুর রহীম সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, ‘মামলা করার প্রয়োজন নেই। পুলিশ বাদী হয়ে জিডি করেছে। জিডির প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হবে।’

এরপর একাধিকবার থানায় গিয়ে ব্যর্থ হয় ওই পরিবারের সদস্যরা। পুলিশও কোন তদন্ত বা আসামি গেফতার করেনি।

এ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের নিকট থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা না পাওয়ায় এলাকাবাসী শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্বতঃস্ফুর্তভাবে চৌমুহনী-ছাতারপাইয়া সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে থানায় মামলা রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ মির্জাপুরে ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় কেউ ধানায় মামলা করতে আসেনি। ঘটনা ঘটে থাকলে থানায় না এসে গ্রামে হইচই করলে কি হবে! তাছাড়া যতটুকু জানা গেছে ঘটনাটি তাদের পারিবারিক ব্যাপার। তারা থানায় না এলেও আমরা একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। তারা থানায় এলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু