গৌরীপুরে কাউন্টারেই অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে ট্রেনের টিকিট

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্টেশনের বুকিং সহকারী ও স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে। আন্তঃনগর ট্রেনের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে। আর লোকাল ট্রেনের টিকিটেও স্টেশনের কাউন্টার থেকে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় যাত্রীদের। অপরদিকে আন্তঃনগর ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও টাকা নিয়ে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের ট্রেনে ভ্রমণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে এসব অনিয়ম বন্ধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ বিষয়ে  স্টেশনের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ গোলাম মাওলা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্টেশনের বুকিং সহকারী মহসীন রেজার বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রির ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ বলেন, টিকিট বিক্রির আত্মসাত্কৃত ৭ লাখ টাকা মহসীন ফেরত দিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত টিম গঠন হয়েছে। তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে তিন রুটে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও লোকালসহ ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। গৌরীপুর থেকে ঢাকার আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট (শোভন) ১৪৫ টাকা হলেও কালোবাজারে তা কিনতে হচ্ছে ২শ’ ৫০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা করে। গৌরীপুর থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের (শোভন) ৩শ’ ২০ টাকার টিকিট ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গৌরীপুর থেকে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেন বলাকা এক্সপ্রেস ও মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭৫ টাকার ট্রেনের টিকিট কাউন্টার থেকেই ১শ’ থেকে ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, টিকিট বিক্রির অনিয়ম বন্ধে আমরা মানববন্ধন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন অবস্থা এমন যে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের টিকিট মিলে না। কিছুদিন আগে আমার কাছে কাউন্টার থেকে বলাকা ট্রেনের ঢাকার ৭৫ টাকার টিকিট ১৫০ টাকা রাখা হয়েছে। বুকিং সহকারী জহির রায়হান বলেন, টিকিট নিয়ে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমরা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করি না। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট জহুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।