কৈশোর থেকে তারুণ্যের সময়টা উচ্ছলতায় উপভোগের। তাই এই বয়সের সবারই ঈদপোশাক হওয়া চাই বৈচিত্র্যময়। পোশাকে থাকবে রং, কাট ও আধুনিকতার মিশেল। আর যেহেতু ঈদ মানেই নতুনত্ব তাই ডিজাইনারদের সূচিকর্ম আর ফ্যাশন ফোরকাস্টিংয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডশপগুলোর পোশাকী আয়োজন। ঈদের সময়টায় কিশোরী বা তরুণীদের চাহিদা থাকে বিভিন্ন রকম পোশাকের প্রতি। এরমধ্যে অনেকেই আছে যাদের শাড়ি নয়, ঈদে চায় নিজস্ব স্টাইল অনুযায়ী পোশাক পরতে। অনেকেরই দেশি পোশাকের পাশাপাশি পাশ্চাত্যের পোশাকের প্রতিই আগ্রহ বেশি। সবমিলিয়ে ঈদের সময়টায় শুধু পোশাকে নয়, সাজেও থাকবে ভিন্নধর্মী লুক।
সেইলরের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রধান রেজাউল কবির জানান, ‘তরুণীদের ফিউশনধর্মী কাপড় বেশি পছন্দ। কম বয়সী মেয়েরা সিঙ্গেল কামিজ, পালাজ্জো, ন্যারো শেপ সিগারেট প্যান্ট বা লেগিংস বা স্কার্ট পরছে লেয়ারিং করে। সালোয়ার-কামিজ না পরে অনেকে ধুতি-সালোয়ার, ট্রাউজারের সঙ্গে বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের টপ। পাশাপাশি এবার ছেলেদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে রঙ-বাহারি শার্ট ও প্যান্ট বাজারে এসেছে। চেক শার্টের বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে এবার। গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সঙ্গে ক্যাজুয়াল শার্টের জোড় ঈদ উত্সবে ছেলেদের আরও স্মার্ট লুক দেবে। কলার ও স্লিভে ডিজাইন বৈচিত্র্য নিয়ে স্লিমফিট কাট এবারও এগিয়ে থাকবে তরুণদের কাছে। পাশাপাশি এনজাইম ওয়াশ বা কুল ডাই বা অ্যাসিড ওয়াশের পোলোগুলোও ঈদ ফ্যাশনে ইন থাকবে। সঙ্গে লোফার বা ক্যাজুয়াল চামড়ার জুতো, বেল্ট পাল্টে দিতে পারে আউটলুক।’
এবার গতানুগতিক সালোয়ার-কামিজের বাইরে তাই অনেকেই পড়ছেন প্যাটার্ন ভিন্নতার পোশাক। ফেব্রিক ভেরিয়েশনের পাশাপাশি এতে থাকছে প্রাচীন ভারতীয় ও মরোক্কান ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কামিজের ঘের হচ্ছে নানা রকম। দেশি ধাঁচের পোশাকগুলোই হয়তো ঈদের প্রথম দিনটিতে বেশি পরা হয়। তবে ঈদ পোশাকের তালিকায় যে পাশ্চাত্য পোশাকও থাকবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করলেন অনেক ডিজাইনার। আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজের উদ্যোক্ত ও ডিজাইন কনসাল্টেন্ট তাসলিমা মলি বলেন, ‘ঈদে গরমের জন্য হালকা রঙগুলো পোশাকে এনেছি। কিশোরীরা হয়তো উজ্জ্বল রঙের পোশাক বেশি পরবে। এ বয়সের মেয়েরা ফ্যাশনটাকে আগে দেখে। তুলনামূলকভাবে বয়স্করা আরামটাকে বেশি প্রাধান্য দেন। তবে আপনি কীভাবে অ্যাকসেসরাইজিং (নানা অনুষঙ্গের ব্যবহার) করছেন পোশাকটিকে, সেটাই মূল বিষয়। আর ফ্যাশনে এখন কাপড়ের বৈচিত্র্য বা আরামদায়ক কি না এবং কাটিংটা কতটা ট্রেন্ডি সেটিও বিবেচ্য। নতুন কাপড়ের মধ্যে রয়েছে সিক্যুয়েন্স, ডিজিটাল, জুমার, লামলাম কটন, লেদার প্রিন্টসহ নানা ধরনের কাপড়। এর মধ্যে সিক্যুয়েন্স কাপড় বেশ গর্জিয়াস। ইন্ডিয়ান কটন রয়েছে কয়েক ধরনের। ইন্ডিয়ান কটনগুলোর পাড়ে চওড়া এমব্রয়ডারি ও হাতের কাজ করা। ভেলভেট কাপড়ে জর্জেটের ওপর নকশা করা হয়েছে ভেলভেট দিয়ে। কটনের মধ্যে রয়েছে চোখ ধাঁধানো নানা ডিজাইন। নতুন আসা লেদার প্রিন্ট খুব আরামদায়ক। নেট কাপড়ের ওপর লেদারের ফুলের মতো বসানো কাপড় জুড়ে। এছাড়া বোম্বে টিস্যু, কটন নেট, লেস চিকেন, ইন্ডিয়ান নেট, ক্রস নেটসহ নানা ধরনের কাপড় বেছে নিতে পারেন আপনার ঈদের পোশাকটির জন্য।’
IMG0
বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবার শুধু নকশাই নয়, পোশাকের কাটছাঁটেও থাকছে ভিন্নতা। ফ্লোরাল নকশার প্যাটার্নে তৈরি হয়েছে টিউনিক। কামিজের ঘেরেও থাকছে বৈচিত্র্য। বেশি ঘের দেওয়া কামিজ তো আছেই। পাশাপাশি চলছে লম্বা টপ বা কামিজে অসমান দৈর্ঘ্য অর্থাত্ সামনে বেশি ঘের, পিছনে কম, আবার পিছনে বেশি, সামনে কম ঘেরের নকশার পোশাক। ফতুয়া বা কুর্তায় থাকছে অসমান কাট। গরমের কারণে এবার স্লিভলেস পোশাক বেশ চলছে, তাই কিছু পোশাকের হাতায় নতুনত্ব আনতে করা হয়েছে পাইপিংয়ের ব্যবহার। কামিজ আর টপের লম্বা হাতায় থাকছে লেস। পালাজ্জোর সঙ্গে লম্বা জ্যাকেট বেশ চলবে। এবার পোশাকের স্টাইলিইংটা বেশ নিরীক্ষাধর্মী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কার্ট কিংবা পালাজ্জোর ওপরে লম্বা জ্যাকেট বা কেপ বেশ চলবে এবার। ভিতরে আপনি ছোট কুর্তি কিংবা ট্যাংক টপ পরতে পারেন। হাতকাটা ম্যাক্সি ড্রেসের ওপরে লম্বা সামার জর্জেট জ্যাকেট বা কেপ ভিন্নতা আনবে। এক রঙা বা নানা রকম ছাপা নকশার বটমও এখন বেশ চলছে। এছাড়া ন্যারো কাটের বটম এবার জনপ্রিয়তায় থাকবে তুঙ্গে। তবে পোশাকে বেশি চাকচিক্য এড়িয়েই পছন্দের ঈদপোশাক বেছে নিবে তরুণীরা। এবার ঈদে কাপড় ও কাটিং বৈচিত্র্য নিয়ে ঈদের পোশাক এনেছে আড়ং, সেইলর, ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, অঞ্জন’স, ইয়োলো, জেন্টল পার্ক, আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজসহ বিভিন্ন দেশি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড।