বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়তে জাতীয়
ঐক্যের বিকল্প নেই :শেখ শহীদ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জাতীয় পার্টি (জেপি)। একই সঙ্গে গণহত্যা দিবসেরও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। কর্মসূচির প্রথম দিন ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ঐদিন সকল বধ্যভূমিতে জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একই দিন ঢাকায় বিকাল ৪টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘শিখা অনির্বাণে’ সমাবেশ ও গণহত্যায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। দ্বিতীয় দিন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে সকালে জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। ২৭ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জহুর হোসেন চৌধুরী হলে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করবেন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাগণ।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেপি’র রাজধানীর লালমাটিয়াস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদক মণ্ডলীর এক যৌথ সভায় উল্লিখিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। সভার প্রারম্ভে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পতাকা দিবসের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গৌরবময় সেই দিনটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ ও সাহসিক নেতৃত্বের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রসঙ্গত, ঐদিন ছিল ‘পাকিস্তান দিবস’ কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেদিন তার বাসভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এবং সারাদেশে এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সভায় বক্তৃতাকালে শেখ শহীদ বলেন, এদেশের স্বাধীনতা আমাদের দেশের জনগণের জন্য এক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। আজ বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন যারা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা বিভক্ত দেশ ও সমাজ নিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব না। এজন্য আমাদের প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, নাজমুন্নাহার বেবী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, আফজাল হোসেন, যু্গ্ম-সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যু্গ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) হাজী আবুল হোসেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী) সৈয়দ সালাহ উদ্দিন, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজ আলম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূরুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যু্গ্ম শ্রম ও শিল্প সম্পাদক ওকিল আহমেদ ওকাল প্রমুখ। জাতীয় পার্টি-জেপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম দলের সকল শাখাকে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করার অনুরোধ জানান।