বাড্ডার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে টারজান গ্রুপ

জামিউল আহসান সিপু

রাজধানীর বাড্ডায় এক নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য প্রকাশ্যে বিস্তার করছে। ইতোমধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টারজান গ্রুপের হাতে প্রতিপক্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী খুন হয়েছে। পুলিশ বলছে, টারজান গ্রুপের কেউই বাড্ডায় থাকে না। তারা মোবাইল ফোনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে। গভীর রাতে এ এলাকায় এসে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ‘কমিশন’ আদায় করে নিয়ে যায়। গত ১৮ মার্চ রাতে মেরুল বাড্ডায় জুলহাস হোসেন মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে টারজান গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। নিহত জুলহাস পেশায় গাড়ি চালক বলা হলেও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার কমিশনের টাকা দিতে অস্বীকার করায় টারজান গ্রুপ তাকে গুলি করে হত্যা করে।

১৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে জুলহাস পশ্চিম মেরুল এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের অদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় তারই পূর্ব পরিচিত দুই যুবক তার কাছে আসে। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে একজন পিস্তল বের করে জুলহাসকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জিমি আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত জুলহাসের বড় বোন মেহের বানু বলেন, ‘সন্ত্রাসী টারজান মনিরের লোকজনই আমার ভাইকে খুন করেছে। টারজান মনির আগে থেকেই সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তার সম্পর্কে কথা বলতেও এলাকার লোকজন ভয় পায়। তার ভাই সাভারের ইপিজেডে প্রাইভেটকার চালাতো। তাদের বাড়ি সাভারের ভার্কুতা এলাকায় হলেও তারা সবাই পশ্চিম মেরুল এলাকায় থাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও মেরুল বাড্ডা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরেক মাদক ব্যবসায়ী খুন হয়েছিল। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় কিছুদিন এলাকাটি শান্ত ছিল। বর্তমানে টারজান মনিরের নেতৃত্বে বাড্ডা এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা চলে।

মেরুল বাড্ডার স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, এলাকায় মাদক কারবারীরা চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাত হলেই তারা গলিতে ঘুরে বেড়ায়। মোটরসাইকেল চালিয়ে এরা ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

পুলিশ জানায়, টারজান গ্রুপের প্রধান মনির গাজীপুর এলাকায় থাকে। এ গ্রুপের খোকন, শাহ আলী ওরফে শাহেন শাহসহ অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী বাড্ডা এলাকার বাইরে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত জুলহাস একসময় এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি টারজান গ্রুপের মনিরের সঙ্গে চলাফেরা করত। তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। টারজান গ্রুপের একটি তালিকা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।