গুলিস্তানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২ জন গুলিবিদ্ধ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের পূর্বপাশে ফুটপাতে গতকাল দুপুরে ছিনতাইকারীর হামলায় ছিনতাইয়ের শিকার এক ব্যক্তি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছিনতাইয়ের শিকার গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম সুজাউদ্দিন তালুকদার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির নাম জাহিদুল ইসলাম সোহাগ। এই দু’জনই দুপুরে দেড়টার দিকে ১০ মিনিট আগে পিছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আসেন। পুলিশ ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তির খোঁজ-খবর নিতে এসে ছিনতাইকারী সোহাগের খোঁজ পায়। এরপর হাসপাতাল থেকেই চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোহাগকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা দু’জনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
সুজাউদ্দিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে এনেছেন মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সুজাউদ্দিনের থেকে ২৫/৩০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেলা একটার দিকে সুজাউদ্দিন মহানগর নাট্যমঞ্চের পূর্বপাশের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল আরোহীসহ কয়েকজন যুবক সুজাউদ্দিনকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে একজন সুজাউদ্দিনের হাতের ব্যাগ কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন সুজাউদ্দিন সেটা ধরে রাখে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দু’জন ছিনতাইকারীর মধ্যে পেছনের সিটে বসা এক ছিনতাইকারী সুজাউদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা সুজাউদ্দিনের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে তিনি দৌড়ে গিয়ে সুজাউদ্দিনকে উদ্ধার করেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোহাগ জড়িত কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি। এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সোহাগ বলছেন, তিনি ফুটপাতে হাঁটার সময় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বলছেন, তার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। তিনি ট্রাক চালান। গতকাল শনিবারই তিনি ঢাকায় এসেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসে। তাদের সঙ্গে একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তারা গুলিবিদ্ধ দু’জনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সোহাগকে শনাক্ত করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন ওসি। বর্তমানে তাকে আটক দেখিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। তবে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন গুলিবিদ্ধ সুজাউদ্দিন সোহাগকে চিনতে পারছে না।
পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক বলেন, দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী সুজাউদ্দিনকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সুঠামদেহী সোহাগ সুজাউদ্দিনের হাতে থাকা হ্যান্ডব্যাগ ধরে টান দেন। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীর অপর সদস্য চার রাউন্ড গুলি করে। এতে সুজাউদ্দিন ও সোহাগ দু’জনই গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় আরেক ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল ইউ টার্ন নিয়ে তাদের দু’জনের মাঝখানে দাঁড়ায়। তখন ছিনতাই করা ব্যাগটি অপর ছিনতাইকারীকে দিয়ে দেন সোহাগ। এবং আর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে সোহাগ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাটি দেখে পুলিশকে জানায়। ওসি মাহমুদুল আরো বলেন, সোহাগকে আসামি করে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।