ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশকে বিরিয়ানিতে গরুর মাংস মেশানো হচ্ছে কী না, সেটা পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় পুলিশের সঙ্গে থাকবেন একজন সরকারি পশু চিকিৎসকও।
বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে গোমাংস নিষিদ্ধ। আইন করে সেখানে গো-সেবা কমিশন আর গরু জবাই বা পাচার রোখার জন্য একটি বিশেষ পুলিশ দলও তৈরি হয়েছে। এবার তাদের ওপরে বাড়তি দায়িত্ব পড়েছে বিরিয়ানি পরীক্ষার।
হরিয়ানার গো-সেবা কমিশনের চেয়ারম্যান ভানি রাম বলেন, ‘মেওয়াট জেলা থেকে প্রচুর অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে যে সেখানে বিরিয়ানিতে গরুর মাংস মেশানো হচ্ছে। সেজন্যই আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি বিরিয়ানি পরীক্ষা করে দেখার জন্য।
মেওয়াটের মুসলমানরা অবশ্য বিরিয়ানিতে গোমাংস মেশানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছে। আইনজীবি ও মেওয়াট বার এসোসিয়েশনের সদস্য নূরউদ্দিন নূর বলেন, বিরিয়ানিতে গোমাংস মেশানোর এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। বহু যুগ ধরে এখানে বিরিয়ানি তৈরি আর বিক্রি হয়, কখনই গোমাংস থাকে না তাতে। মেওয়াটের বদনাম করতে এসব বলা হচ্ছে। এখানে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে যে একটা সম্প্রীতি রয়েছে, সেটা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, মানুষের মনে ভীতি তৈরি করতে চাইছে কেউ কেউ।
মেওয়াট জেলাটি মুসলমান-প্রধান এলাকা। এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৭০% মুসলমান। ভারতের রাজধানী দিল্লির থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার অন্তর্গত এই জেলা।
ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে গো মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন হরিয়ানা সরকারের মতো গরু জবাই বা গোমাংস খাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞার বলবৎ করতে রীতিমতো সরকারি পরিকাঠামো অন্য কোনও রাজ্যে নেই বললেই চলে। হরিয়ানা গো-সেবা কমিশন ছাড়াও ডিআইজি পদমর্যাদার একজন নারী পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন পুলিশ কর্মী ছড়িয়ে রয়েছেন গোটা রাজ্যে, যাদের কাজ গরু জবাই বা গরু পাচার রোখা। বাংলাদেশে যত গরু পাচার হয় ভারত থেকে, তার একটা বড় অংশই আসে হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/এসএসএ