জিকা ভাইরাস : আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই

সিঙ্গাপুরে বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর আসার পর সেখানে অন্তত ১০ বাংলাদেশি মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হাইকমিশন। এই খবরে দেশেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। গর্ভবতী মায়ের সন্তান ছাড়া অন্য কেউ এতে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
 
চিকিত্সকদের মতে, জিকার লক্ষণ অনেকটা ডেঙ্গুর মতোই। প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের মধ্যে হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথাব্যথা, হাড়ের গিঁঠে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়। বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ‘গুলেনবাড়ি সিনড্রোমে’ ভুগতে পারেন। এর ফলে সাময়িক পক্ষাঘাত কিংবা ‘নার্ভাস সিস্টেম ডিজঅর্ডার’-এর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
 
গর্ভবতী মা মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে,    মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে ‘মাইক্রোসেফালি’। মাতৃগর্ভে থাকার সময় ‘মাইক্রোসেফালি’ আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের গঠন সম্পূর্ণরূপে হয় না। ফলে ওইসব শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, এমনকি জন্মের পরপর কারো কারো মৃত্যুও হতে পারে। তবে জিকা ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়।
 
১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। তবে এর লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না। অবশ্য এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
 
গত মার্চে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির রক্তের নমুনায় জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছে জাতীয় রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জিকা নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ ঘটেনি। তবে এ ভাইরাস ঠেকাতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণের কাজটি করতে হবে প্রতিটি বাড়িতে। কারণ এডিস মশা ঘরের মধ্যে ফুলদানি বা পাত্রে জমানো পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে।
 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা অনুষদের ডিন ও প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, জিকা সংক্রমণে মৃদু জ্বর হয়। শরীর ঠাণ্ডা রাখলে জিকা সংক্রমণ সেরে যায়। তাই বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এতে করে ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে জিকা সংক্রমণ সেরে যায়। তাই এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এতে আক্রান্ত পুরুষদের কোনো সমস্যা নেই। তবে এতে গর্ভবতী নারীর গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়। অবশ্য মায়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
 
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ইত্তেফাককে বলেন, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনি এই ভাইরাস নিয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আগত এবং বিদেশগামী যাত্রীরা বিমানবন্দরে স্থাপিত স্ক্রিনিং মেশিনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন। কারও শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে সরকারি খরচে তাকে চিকিত্সা দেওয়া হবে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন