রুহুল আমিনের জামিন বাতিল করল হাইকোর্ট

তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি মো. রুহুল আমিন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আট আসামি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এমনকি ভিকটিমের জবানবন্দিও রয়েছে আদালতে। কিন্তু আবেদনে এসব জবানবন্দির বিষয়টি গোপন করে উচ্চ আদালতে জামিন চান ওই আসামি। বিষয়টি নজরে আসায় বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল শনিবার আসামির এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে দেন। গত ১৮ মার্চ এই আদালত থেকে আসামি জামিন পেয়েছিলেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, যেখানে সমগ্র জাতি ধর্ষণ মামলার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এবং ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ সেখানে গণধর্ষণ মামলার আসামির জামিন হয়ে যাওয়ায় সবাই হতবাক হয়ে যান। তবে হাইকোর্টের কাছে কৃতজ্ঞ যে বিষয়টি অনুধাবন করে বন্ধের দিনেও আদেশটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামির আইনজীবী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ভিকটিমের জবানবন্দি সন্নিবেশিত না করে আদালতকে ভুল বুঝিয়ে ওই জামিন নেন। পরে আমার অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারপতিদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। তখন বিচারপতিগণ খাস কামরায় বসে জামিন আদেশটি রিকল করে বাতিল করেছেন। এখন জামিন বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে যাতে ওই আসামি কারাগার থেকে বের হতে না পারে। তিনি বলেন, যদি আদালতের সামনে সকল তথ্য-প্রমাণ সন্নিবেশিত হতো তাহলে আসামি জামিন পেতেন না। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়া এক ধরনের ঘৃণ্য তত্পরতা। বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে। আসামির আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে সোমবার আবেদন জানাব।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলি ইউনিয়নে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী ৩১ ডিসেম্বর নয় জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জামিন চেয়ে আসামির করা আবেদন গত ৪ মার্চ খারিজ করে দিয়ে নোয়াখালীর জলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আদেশে বলেন, রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায় এটা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। জামিনপ্রার্থী আসামি রুহুল আমিনের হুকুমে ও নির্দেশে অপরাপর আসামিরা অভিযোগকৃত গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায় মর্মে ভিকটিম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় জামিন না-মঞ্জুর করা হলো।

এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, জামিন আবেদনকারী পেশায় আইনজীবী মুহুরি। মামলার এজাহারে নাম নেই। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে আসামি করা হয়। আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আশেক-ই-রসুল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত রায়।