বরিশাল অফিস
বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের তেঁতুলতলা নামক স্থানে বাস ও থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে বিএম কলেজের ছাত্রী শীলা হালদারসহ সাতজন নিহতের ঘটনায় গতকাল শনিবার বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রথমে মানববন্ধন করে এবং পরে এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও কলেজের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি মাহিন্দ্রা গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের লক্ষ্যে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দিকে রওয়ানা হলে পুলিশ নথুল্লাবাদ পুলের ওপর শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। এর আগে বাস শ্রমিকরা দুর্ঘটনায় জড়িত চালক জলিলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয়। শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হলে কিছু বাস যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারলেও পরে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পুনরায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পুলিশের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস প্রদান করা হলেও শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভে অংশ নেয় বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্তী।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোশারফ হোসেন বিপিএম ইত্তেফাককে জানান, শ্রমিকদের সমস্যা আগেই সমাধান করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের পাশাপাশি মেয়রের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে আটক বাসচালক জলিলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টে টকে আহ্বায়ক করে মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি, বিআরটিএ এডি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের দাবিতে শোক
মিছিল মানববন্ধন
নগরীর গড়িয়ারপারের তেঁতুলতলা নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রিকশা শ্রমিক খোকনসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গতকাল শনিবার শোক মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল মহানগর রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার আয়োজনে বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মহানগর রিকশা-ভ্যান চালক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন দিদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাবুল তালুকদার, মহসিন মীরসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এর আগে তারা নগরীতে এক শোক মিছিল বের করে।