আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা না বললেও রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য সংগ্রহ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচন ব্যয়ের হিসাবও সংগ্রহ করবে। এসব বিষয়ে শিগগির সিইসি’র সঙ্গে বসবে দুদক। কমিশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে কোনো কালো টাকা বা অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের দেশের জনগণ নির্বাচিত করবে না। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে নির্বাচনী ব্যয়ের নামে কালো টাকা ব্যয়ের বিষয়টি দুদক পর্যবেক্ষণ করবে। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে মিথ্যে তথ্য এবং কালো টাকা খরচ করে কেউ নির্বাচিত হলে ‘অসুবিধা নেই’। কারণ পরবর্তীদের তাদের হিসাব নিবে দুর্নীতি দমন কমিশন। কেউ মিথ্যে তথ্য দিলে বা কারো বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ ব্যয়ের প্রমাণ মিললে দুদক তার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কোনো প্রার্থীর অবৈধ সম্পদ বা কালো টাকার বিষয়টি নির্বাচনে প্রকাশ করবো না। তবে জনগণের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে দুর্নীতিবাজদের তারা যেনো ভোট না দেন। এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রচারণা চালাব না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন প্রত্যাশা করে নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবাই স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন এবং নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন কমিশনে ব্যয় বিবরণী জমা দেবেন। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিবেন না, এখানে অবৈধ সম্পদের কোনো বিষয় থাকলে দুদক আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মধ্যেও (দুদকে) দুর্নীতি আছে। আমরা পুরোপুরি দুর্নীতি মুক্ত হতে পারিনি। তবে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রমাণ সাপেক্ষে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ওইসব কর্মকর্তাদের তালিকা সরকারকে দিয়ে বলেছি তাদের (দুর্নীতিবাজ দুদক কর্মকর্তা) তাদের দুদক থেকে প্রত্যাহর করে নেওয়া হোক। সরকার আমাদের সহযোগিতা করেছে।
দুদক চেয়ারম্যান দুদকের কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে বলেন, সরকারি কর্মচারী আইন পাস হলেও এটা এখনও কার্যকরী নয়। তাই আগের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের অভিযান আগের মতই চলবে। আপনারা নির্বিগ্নে কাজ করে যান। ইতোমধ্যে দুদকের গোয়েন্দা টিম সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের আমলনামা সংগ্রহ করেছেন। এটি আমরা সময়মতো প্রকাশ করবো। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ব্যক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক বা পেশাগত পরিচয় কমিশনের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, ব্যক্তি যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে কালো টাকা বা অবৈধ সম্পদ অর্জন বা পেশি শক্তি ব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন তবে তাকে কমিশন আইন-আমলে নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে তখনই সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যখন কমিশনের মামলায় শতভাগ সাজা নিশ্চিত হবে। যদিও এক্ষেত্রে বর্তমান কমিশনের সফলতা রয়েছে, কারণ সাজার হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে তা প্রায় ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সভায় দুদক কমিশনার এএফ এম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব ড. মোঃ সামসুল আরেফিন, দুদকের মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক শিরিন পারভীন, উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী, সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার মনি বক্তব্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।