পৃথিবীর বাইরে ভিন্ন নক্ষত্রের গ্রহগুলোতে মানুষের মতো কিংবা আরো বেশি সভ্য, বুদ্ধিমান প্রাণীদের এক কোটি উন্নত সভ্যতা থাকার সম্ভাবনার কথা বলে থাকেন বিজ্ঞানীরা। তারা এমন এক মহাসভ্য ভিনগ্রহী জাতির কথা বলে থাকেন, যারা নাকি নিজ গ্যালাক্সির সবগুলো সূর্যের আলোক শক্তিকে কব্জা করে ফেলতে পারে। কিন্তু গ্যালাকটিক আলোয় ছুটে চলা ওই আন্তঃনাত্রিক অভিযাত্রীদের দেখা কেন পায়নি মানুষ? আদৌ কি পৃথিবী ভিন্ন অন্য কোনো বাসযোগ্য বিশ্ব রয়েছে এই মহজাগতে?
আমরা এখনো জানিনা আমাদের থেকে ১০ লক্ষ বছরের এগিয়ে থাকা সভ্যতা আসলে কী। জীবাশ্ম-জ্বালানি পৃথিবীর অর্থনীতিকে ক্ষমতাবান করলেও তা আবার মানবজাতিকে যুদ্ধ ও দূষণের মতো এক বিপর্যয়কর পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে। সূর্যের অফুরন্ত ক্ষমতাকে ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপর্যয়কে রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। তাহলে মানবজাতির আসন্ন বিপদগুলোকে কাটিয়ে আমরা কি আত্মধ্বংসের প্রবণতামুক্ত টাইপ ওয়ান সভ্যতায় পৌঁছোতে পারবো?
এসব প্রশ্নকে ঘিরে ফ্রিম্যান ডাইসন, কার্ল সাগান, মার্টিন রিজ, ফ্রাঙ্ক ড্রেক, হারম্যান শিয়ারের গবেষণা অবলম্বনে বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করেছে বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্ট। আসছে ১ অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫.৩০ মিনিটে ঢাকার বাংলামটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন পেশাদার বিজ্ঞানবক্তা আসিফ।
ডিসকাশন প্রজেক্টের তথ্যসচিব মাজেদুল হাসান জানিয়েছেন, ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় টিকিট কেটে উপভোগ করা যাবে বিজ্ঞান বক্তৃতা এবং আন্তঃনাক্ষত্রিক সভ্যতার খোঁজে নিজের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোও উত্থাপন করা যাবে।
টিকিটের বিনিময়মূল্য মাত্র ২০০ টাকা। তবে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য দর্শনী ১০০ টাকা রাখা হয়েছে। আসন সংখ্যা সীমিত। টিকিট সংরক্ষণ ও যে কোনো প্রশ্নের জন্য যোগাযোগ : ফোন- ০১৯১৪৪৩৪৩৮০, ০১৫২১৩৩০২২৪ ও ই-মেইল: discussionproject@gmail.com। নিজস্ব ওয়েবসাইটে ডিসকাশন প্রজেক্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সমকালীন প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের গবেষণা অবলম্বনে মহাজাগতিক সভ্যতা ঘিরে কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদের এবারের বিজ্ঞান বক্তৃতার শিরোনাম, ‘ওরা কেন আসেনি’।
বিজ্ঞানচিন্তক আসিফ ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞানবক্তৃতা করে আসছেন। ‘ওরা কেন আসেনি’ তার ৬৫তম উন্মুক্ত বক্তৃতানুষ্ঠান। আসিফ তার ‘বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে’ গ্রন্থের জন্য ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে হালিমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার (১৪২০-১৪২১) লাভ করেন।
ইত্তেফাক/এএম।