বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতকে যেভাবে সাহায্য করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার

১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় ভারত, তখন ইসরায়েল আর ভারতের মধ্যে কোনো রকম রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। উল্টোদিকে ইসরায়েলের সব থেকে কাছের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করছিল পাকিস্তানকে। সে অবস্থায়ও ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন ইসরায়েলের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোল্ডা মেয়ারকে বলা হতো ইসরায়েলের দাদিমা। চেইন স্মোকার ছিলেন গোল্ডা মেয়ার। ফিল্টার ছাড়া সিগারেট খেতেন একের পর এক। ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুড়িয়োঁ মন্তব্য করতেন গোল্ডা মেয়ার তার মন্ত্রিসভায় একমাত্র ‘পুরুষ’। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে যারা সই করেছিলেন, গোল্ডা মেয়ার ছিলেন তাদের অন্যতম। ১৯৫৬ সালে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৫ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তবে বছর চারেক পরে ১৯৬৯ সালে ইসরায়েলের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী লেওয়াই এশ্কালের মৃত্যুর পরে তাকে রাজনৈতিক সন্ন্যাস থেকে ফিরিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী করা হয়।

১৯৭১ সালে তার আমলেই যুদ্ধে জড়ায় ভারত-পাকিস্তান। মার্কিন সাংবাদিক গ্যারি জে বাস যুদ্ধের অনেক পরে দিল্লির নেহরু লাইব্রেরিতে রাখা ‘হকসার পেপার্স’ নামে পরিচিত নথি ঘাঁটতে গিয়ে উদ্ধার করেন তখনো পর্যন্ত না জানা কিছু তথ্য। গ্যারি বাস পরে নিজের বই ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এ লিখেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার গোপনে কিছু অস্ত্র আর মর্টার পাঠিয়েছিলেন ভারতের কাছে। ইসরায়েলি অস্ত্র বিক্রেতা শ্লোমো জবলুদোউইক্সের মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়েছিল। ওই অস্ত্র সম্ভারের সঙ্গে ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র প্রশিক্ষকও ভারতে এসেছিলেন সেই সময়ে। ইন্দিরা গান্ধীর প্রধান সচিব পি এন হাকসার আরো অস্ত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। গোল্ডা মেয়ার তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ওই সাহায্য জারি থাকবে।

ইসরায়েল এরকম একটা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে ওই অস্ত্র সহায়তার পরিবর্তে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করুক। সেই অনুরোধ অবশ্য ভারত বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এটা পছন্দ করবে না- এমনটাই কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রায় ২০ বছর পরে যখন নরসিমহা রাও ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তখন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক তৈরি হয় ভারতের।

১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক চলাকালীন গেমস ভিলেজের ভেতরে ঢুকে আরব উগ্রপন্থিরা এগারো জন ইসরায়েলি অলিম্পিয়ানকে হত্যা করে। গোল্ডা মেয়ার ইসরায়েলি গুপ্তচর বাহিনী ‘মোসাদ’-এর এজেন্টদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে। দুনিয়ার যে কোনো প্রান্তেই থাকুক না কেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে যেন মেরে দেওয়া হয় সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মেয়ার।