পঁচিশের কালরাত

 

এমন ভয়াল রাত্রি কখনো আসেনি এ পৃথিবীতে

হিংস্র দানব জেগে উঠেছিল মানুষের বিপরীতে।

গণতান্ত্রিক অধিকার আর স্বাধিকার রুখে দিতে

অস্ত্রের ভাষা ব্যবহার ওরা করেছিল এ মাটিতে।

 

বঙ্গবন্ধু বাঙালির নেতা দেশের মুক্তি চান

সে দাবি রুখতে গণহত্যায় নামে ইয়াহিয়া খান।

ট্যাঙ্ক ও কামান গর্জে উঠল হঠাত্ মধ্যরাতে

ঘুমন্ত এই নগরী পুড়েছে গুলিতে অগ্নিপাতে।

 

খানসেনা ওরা মানুষ ছিল না—হায়না পাকিস্তানি

কী ভয়াল আর হিংস্র ওরা যে আমরাই শুধু জানি।

নারী-শিশু আর বৃদ্ধ-তরুণ ছিল না বিচার কিছু

আগুন-বুলেট সে-রাতে ছুটেছে মানুষের পিছু পিছু।

 

রাজারবাগ ও ঢাকা ভার্সিটি, পিলখানা জ্বলে শেষ

বাঙালি-ছাত্র শ্রমিক-জনতা তবুও অনিঃশেষ

প্রতিরোধ গড়ে সাতই মার্চের আহ্বান মনে রেখে

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায় বাঙালি দুচোখে স্বপ্ন এঁকে।

 

পঁচিশে মার্চে মধ্যরাতের গণহত্যার স্মৃতি

প্রতিটি মার্চে ফিরে ফিরে আসে হূদয়ে জাগিয়ে ভীতি।

পঁচিশের শোক প্রতিরোধ গড়ে ছাব্বিশে মার্চ থেকে

মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি আমরা যে একে একে।

 

লাখো শহীদের স্মৃতির বেদিতে ফুলের অর্ঘ্য রাখি

এসো এই রাতে একটি মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকি।