বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ভোট বিপ্লব হবে। জনগণ সেই ভোট বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেমিনারে ইভিএম প্রকৌশলীরা যন্ত্রটি দিয়ে কীভাবে ভোট কারচুপি করা যায় এর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন। তাদের যুক্তি, যেকোনো ডিভাইসের মাধ্যমে দূর থেকে ভোট কারচুপির সুযোগ আছে ইভিএমে। এই মেশিনের মাধ্যমে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে। ইভিএমের মাধ্যমে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই কারো সহযোগিতা ছাড়া প্রতি ঘণ্টায় ১০০ ভোট দিতে পারবেন বলে দাবি করেন প্রকৌশলীরা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এখন ইসি নিজে থেকেই আজ্ঞাবহ হয়ে আছে। এই জন্যই আজকে জনগণের কোনো কথাই তাদের কানে যাচ্ছে না। নির্বাচনে আমরা যাব। জাতি নির্বাচনে যাবে। নির্বাচনকে জনগণের রায়ে পরিণত করতে, সেই লড়াই ও যুদ্ধে জনগণ লড়াই করবে। সেখানে কোনো কিছু করেই আটকে রাখতে পারবে না। ভোট বিপ্লব হবে। জনগণ সেই ভোট বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, আবারও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসবার জন্য জোর করে সব অপকৌশলকে ব্যবহার করছে। জনগণের ওপরে যখন কোনো আস্থা থাকে না তখনই এসব কৌশল নেওয়া হয়।
সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা আজকে প্রশ্নবিদ্ধ। সুতরাং তাদের ওপরে বিশ্বাস ও আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ইভিএম ব্যবহার সংবিধানবিরোধী দাবি করে বলেন, ইভিএম ব্যবহার করা হলে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সেনাবাহিনীকে দিয়ে এই সংবিধানবিরোধী কাজ করিয়ে তাদের বিতর্কিত করবেন না।
কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা ইভিএম চাই না। যারা ইভিএম দেখেননি, তারা ভোট দিলে তাদের ভোট যে প্রয়োগ হবে তার নিশ্চয়তা নেই। নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমাদের এই নির্বাচনে জিততেই হবে। আর ইভিএমের বিরোধিতা করছি একারণে যে, তারা (সরকার) ভোট চোর। এই সুযোগ তারা নেবে। তবে সরকার নির্বাচন কারচুপি করার চেষ্টা করলে জনগণের অভ্যুত্থান হবে।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।