জয়নুল হক
আমরা জানি, ‘পানির অপর নাম জীবন’। পানি পান করা ব্যতীত জীবনধারণ করা অসম্ভব। এমনকি আমাদের দেহের দুই-তৃতীয়াংশ পানি। জীবনধারণের অতি জরুরি উপকরণ পানি বিশ্বের সর্বত্রই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কিন্তু খুবই অনুতাপের বিষয়, যে পানি পান না করলে আমাদের অস্তিত্বই থাকবে না, সেই পানি আজ দূষণের কারণে পান অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের ঘনবসতি সম্পন্ন এলাকায় পানির অভাব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ওয়াসার পানি সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণে বেশিরভাগ মানুষ অনিরাপদ পানি ব্যবহার করে থাকে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। যেখানে নিরাপদ পানি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে সেখানে অনিরাপদ পানি ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পেয়ে নতুন রোগের উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা শহরে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা মূলত বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা থেকে পানি এনে শোধন করে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু এ দুই নদীর পানি এতটাই দূষিত যে তা শোধন করেও পানযোগ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, নদী দূষণের কারণে নদীর অবস্থা বেশ নাজুক। এসব নদীতে এখনো পানি আছে বটে, কিন্তু সে পানি এতই দূষিত যে তা মানুষের পানের উপযোগী নয়। তাছাড়াও অনেক সময় ওয়াসার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ফোটানো হলেও কিছু এলাকায় সরবরাহকৃত পানি থেকে দুর্গন্ধ যায় না, ফলে তা পানযোগ্য করাও সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভয়াবহহারে বেড়ে গেছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। দূষিত পানি পানে নানা জটিল রোগের উত্পত্তি হতে পারে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসের মতো মারাত্মক ব্যাধির উেস থাকে দূষিত পানি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত, এ রকম দূষিত পানি দীর্ঘদিন পান করতে থাকলে আরো জটিল রোগ, এমনকি মরণ ব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে। কিডনি রোগ, আলসার, রক্তচাপ, অ্যাজমা ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে না পারলে জনস্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণভাবে হুমকিমুক্ত করা যাবে না। বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করে বহু রোগ থেকে আত্মরক্ষা করা যায়। তাই, সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণের জন্য ওয়াসাকে পানি পানের উপযোগী করার লক্ষ্যে মূল শোধনাগারে নেওয়ার আগে একটি প্রাক-শোধনাগারে নিয়ে একবার শোধন করতে হবে এবং দুটি পৃথক শোধনাগারে দুই দফায় শোধন করার পরেই কেবল তা মানুষের পানের জন্য সরবরাহ করতে হবে।
n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়