কলকাতাকে ভুলতে পারেন না সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার

কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) প্রতীক হয়ে গিয়েছিলেন এক সময়। লম্বা সময় ধরে এই দলটার হয়ে খেলেছেন, এই দলের হয়ে আইপিএল শিরোপাও জিতেছেন। সময়ের বৃত্তে সেই সাকিব আল হাসান এই দুই মৌসুম ধরে খেলছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদে। গতকাল হায়দারাবাদের হয়ে পুরনো দল কেকেআরের বিপক্ষে আবারও খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। তাও আবার ইডেন গার্ডেন্সেই।

এই ম্যাচের আগে সাকিব বলছিলেন, ইডেন ও কেকেআর তার কাছে একটা আলাদা আবেগের নাম। ভারতের এই বাংলা দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সাকিব বলছিলেন, ‘কেকেআর, ইডেন! এই দুটো নাম বললে অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসে। প্রথম মৌসুম থেকে যতদিন ছিলাম, সব ক’টাই আমার কাছে স্মরণীয়। চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, মানুষের মন জয় করেছি। আরও একটা ব্যাপার ছিল। ঢাকা আর কলকাতা খুব কাছাকাছি বলে আমার বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সবাই ম্যাচ দেখতে আসত। কলকাতার মানুষ, ইডেনের দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। যা কোনো দিন ভুলব না।’

তবে কেকেআরের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে এখন সাকিব হায়দারাবাদের ক্রিকেটার। তাই নিজের বর্তমান দলেরই শক্তি বিশ্লেষণ করছিলেন। নিজেদের দল নিয়ে বলতে গিয়ে সাকিব বলছিলেন, ‘এই দলটার আসল শক্তি হলো, যে কোনো পরিবেশ, যে কোনো পরিস্থিতিতে খেলতে পারে। অলরাউন্ড শক্তি এতটাই ভাল যে, কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার জন্য আমরা তৈরি। এবার কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে ঠিক করতে হবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেরা দল কোনটা হবে।’      

আইপিএলের পাশাপাশি সাকিবের নিজের কথা হলো। অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ভুগেছেন। এর মধ্যে এশিয়া কাপে যে ইনজুরি নিয়ে খেলেছিলেন, তাতে আঙুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাকিব বলছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমি জানতাম না আঙুলটার অত খারাপ অবস্থা হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, বেশি চাপ পড়ছে বলে আঙুলটা ফুলে যাচ্ছে। পেইনকিলার ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলে যাই। তার পরে যখন একেবারে অসম্ভব হয়ে ওঠে, দেশে ফিরে যাই। প্রচণ্ড সংক্রমণ হয়ে গিয়েছিল আঙুলে। একটু দেরি হলে পুরো হাতের ভিতরে ছড়িয়ে যেতে পারত। সেটা মারাত্মক হতো। ভাগ্য ভাল, সেটা থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।’

এখন ফিরে এসেছেন পরের ইনজুরিও পার করে। ফিরে এসে নিতে হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। সাকিব বলছিলেন, এখনকার দিনে ক্রিকেট যেভাবে বদলে যাচ্ছে, তাতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়, ‘বিশেষ কিছু তো করতেই হবে। না হলে টিকে থাকা যাবে না। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ট্রেনিং করছি। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি। নতুন, নতুন জিনিস পরীক্ষা করছি। ওই যে বললাম, ক্রিকেট এখন প্রত্যেক দিন বদলে যাচ্ছে। যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আপনাকেও নতুন কিছু আমদানি করতে হবে।’